রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভবনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে জোর করে অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত, ভাঙচুরসহ ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলী আদালতে মামলাটি করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। মামলার আসামিরা হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।
আদালতে দেয়া আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের জিএসের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা মেহেদী আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে সালাহউদ্দিন আম্মার উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসুর জিএসের অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবৈধভাবে সমবেত হয়ে তার অফিসের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে তার ২০২ নম্বর অফিস কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, অফিসে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিলঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সঙ্গে তার অফিসের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাজমুস সাকিবকে বাচাতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে মেহেদীও রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বণিক বার্তাকে বলেন, আমার সম্পাদকদের উপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার এজন্য আমার সম্পাদকদেরকে ইনভল্ভ করে একটা মামলা করছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা এছাড়া আর কিছু না।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বণিক বার্তাকে জানান, আমি যতটুকু জানি মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে এবং এটা বর্তমান পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।