সংসদ কর্নার

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার ও বাংলাদেশের রফতানি বাজার সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন। গতকাল জাতীয় সংসদে জামালপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘টেকসই ও বহুমুখী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রফতানি বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কার্যকর অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে এবং একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে নতুন বাজার অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ, যাতে রফতানির সুযোগ বাড়ানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এবং ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষরের জন্য আলোচনা চলছে, যা রফতানি বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে এসব চুক্তি সম্পন্ন করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশের রফতানি আয় তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরতা কমাতে বিদেশে বাংলাদেশী মিশনগুলো বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনী আয়োজন করছে এবং আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিচ্ছে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য প্রচার ও (ইপিএ) সুবিধা ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, পাশাপাশি আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করতে জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলা বিজ’ পোর্টাল চালু করেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া কর প্রণোদনা, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সীমা বৃদ্ধি এবং অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বিডা, বেজা ও বেপজাসহ ছয়টি বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একটি সমন্বিত প্লাটফর্মে আনা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ৩২টি সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিদেশে বাংলাদেশী মিশনগুলো ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলকে সহায়তা ও কনস্যুলার সেবা উন্নয়ন এবং বন্দর ও কাস্টমস-সংক্রান্ত বিষয়ে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদারে কাজ করছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব ইতিবাচক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশে আরো বেশি বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সহায়ক হবে।’

আরও