বিমসটেকও কি সার্কের মতো পথ হারাবে

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক প্রতিষ্ঠা পায় আশির দশকের মধ্যভাগে। ভারত ও পাকিস্তানের রেষারেষির প্রভাবে আঞ্চলিক এ জোটের কার্যকারিতা কিংবা সম্ভাবনা নিয়ে এখন আর কেউ আশাবাদ ব্যক্ত করেন না।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক প্রতিষ্ঠা পায় আশির দশকের মধ্যভাগে। ভারত ও পাকিস্তানের রেষারেষির প্রভাবে আঞ্চলিক এ জোটের কার্যকারিতা কিংবা সম্ভাবনা নিয়ে এখন আর কেউ আশাবাদ ব্যক্ত করেন না। সংস্থাটির স্থগিত হওয়া সর্বশেষ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোটের নতুন মেরুকরণ আলোচনায় আসে ১৯৯৭ সালে। ওই বছর প্রতিষ্ঠা পায় বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বহু খাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ—বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন)। ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন। এ সম্মেলন উপলক্ষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ৩ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ২০ তম বিমসটেকের মন্ত্রীপর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া, এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আগে ৩ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টা ’বিমসটেক ইয়াং জেনারেশন ফোরাম : হয়্যার দ্য ফিউচার মিটস’ শীর্ষক ফোরামে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে আছে ভারত, শ্রীলংকা, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল ও থাইল্যান্ড।

বিমসটেকের কার্যক্রম নিয়ে বিগত ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আঞ্চলিক অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ জোটও সার্কের মতো পথ হারাবে। তারা বলছেন, বিমসটেক-বিষয়ক নানা পরিকল্পনা ও আলোচনা এগোয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনীতিবিদদের মধ্যে পরিকল্পনাগুলোর নীতিগত দিক নিয়ে মতৈক্যও দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে সেই ঐকমত্যের প্রতিফলন হয় না। এ পরিস্থিতির উজ্জ্বল উদাহরণ ২০০৪ সালে স্বাক্ষর হওয়া বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। আসন্ন বিমসটেক সম্মেলনেও চূড়ান্তভাবে এফটিএ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সার্কের বিকল্প জোট হিসেবে বিমসটেক বা এ দুই সংস্থার তুলনামূলক আলোচনায় অগ্রহী নন অনেক বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট হিসেবে সার্কের তেমন কোনো অর্জন নেই। অন্যদিকে বিমসটেককে একটি কার্যকর ও গতিশীল সংগঠনে পরিণত করতে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক রয়ে গেছে। ফলে বিমসটেকও সার্কের মতো পথ হারাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্ক এখন আর একেবারেই কার্যকর নেই। সার্ক নিয়ে উৎসাহও অনুপস্থিত সদস্যদেশগুলোয়। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় বিমসটেক নিয়ে রাজনৈতিক উৎসাহ ছিল এবং এখনো আছে। ১৯৯৭ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এ সংস্থার দুই সদস্যদেশ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড আসিয়ানেরও সদস্য। সুতরাং দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যে একটা মেলবন্ধনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার একটা লক্ষ্য ছিল বিমসটেক প্রতিষ্ঠার সময়।

বিমসটেক-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০০৪ সালে বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হয়েছিল। এ চুক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো চূড়ান্ত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হয়নি। এছাড়া বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে যেমন—পরিবহনসংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা। এর মাধ্যমে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগের একটা ত্রিমাত্রিক সংশ্লেষ করার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ উদ্দেশ্যে এমিন্যান্ট পারসনস গ্রুপ গঠন করা হয়েছিল। তাদের প্রতিবেদন নিয়ে আসন্ন সামিটেও আলোচনা হবে। কিন্তু ২৮ বছরে বিমসটেক যে গতিতে অগ্রসর হয়েছে তাতে এবারের সম্মেলন নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না পর্যবেক্ষকরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিমসটেকের সম্ভাবনা অনেক রয়েছে। যেমন বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো। বিনিয়োগ এক দেশ থেকে আরেক দেশে নেয়া। দক্ষিণ এশিয়া এবং আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট কানেক্টিভিটি স্থাপন করা। এ রকম অনেক সম্ভাবনা আছে। এসব ঘিরে অনেক ভালো উদ্যোগও আছে যেমন—পরিবেশ, ব্লু ইকোনমি, ট্রান্সপোর্ট।’ পরিকল্পনার সমান্তরালের বাস্তবায়নের শ্লথগতির কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান যোগ করেন, ‘কিন্তু বাস্তবায়নের দিক থেকে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক সিগন্যালটা কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটা গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। বিমসটেক এফটিএ হলো এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২০০৪ সাল থেকে ২০ বছর ধরে এফটিএ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু এবারো এফটিএ হবে না। ফলে আওতাভুক্ত দেশগুলো কত দ্রুততার সঙ্গে কীভাবে শূন্য শুল্কে আসবে, রুলস অব অরিজিন কী হবে, বিভিন্ন অশুল্কবাধা কীভাবে অ্যাড্রেস করা হবে—বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় নিজ নিজ দেশগুলোর নেগোশিয়েটররা যখন অংশগ্রহণ করেন, তখন রাজনৈতিক সিগন্যালের সঙ্গে গ্যাপ থেকে যায়। একপর্যায়ে দেখা যায় কোনো কিছু এগোয়নি।’

‘আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমি মনে করি এখনো অনেক সম্ভাবনা আছে’—এমনটা উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, ‘এমিন্যান্ট পারসনস গ্রুপের পরামর্শগুলো এপ্রিলের ষষ্ঠ সামিটে গৃহীত হবে বলে আমরা আশা করছি। যদি ষষ্ঠ সামিটে রাজনৈতিকভাবে জোরালো কোনো চাপ দেয়া যায় এবং সেটা যদি বাস্তবায়নকারীদের মধ্যে সঞ্চরণ, সময়াবদ্ধভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে এটার একটা বড় সম্ভাবনা আছে। যেসব উদ্যোগ আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে এর সম্ভাবনা অনেক বড়। দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংযোগ স্থাপন করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ—ত্রিমাত্রিক সংশ্লেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে গভীর করা সম্ভব। কিন্তু যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে তা থেকে বলা যায় সম্ভাবনাগুলো অপূর্ণ রয়ে গেছে।’

মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বিমসটেকের সঙ্গে সার্ক তুলনীয় হবে না। পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্কের কারণে সার্ক এখন স্থবির হয়ে আছে। বিমসটেকে সে রকম কোনো রাজনৈতিক দিক নেই। ফলে একে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য অনুঘটন ও উপাদান দুটোই আছে। কিন্তু এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সীমান্তবর্তী দেশগুলো জোট হলো বিমসটেক। এখানে চীনের আগ্রহ রয়েছে। আবার ইন্দো-প্যাসিফিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। সব মিলিয়ে বিমসটেক আদৌ কোনো কার্যকর রূপ নেবে না এবং একসময় সার্কের মতো একটা মৃত সংস্থায় পরিণত হবে। বিমসটেক প্রধানত ভারতের একটি উদ্যোগ। এ সংস্থায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর বাইরে আছে শুধু থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। সার্ক যেমন ভারত দ্বারা প্রভাবিত ছিল, বিমসটেকও তাই। এমন এক সমীকরণে বিমসটেক কতটা বৈশ্বিক আকর্ষণ টানতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিমসটেকের দাপ্তরিক ব্যয়ের ৩২ শতাংশ বহন করে ভারত। যদিও এর প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে। সব মিলিয়ে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। জানতে চাইলে বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পাণ্ডে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সার্ক ও বিমসটেককে তুলনা করা যায় না এবং করা উচিতও নয়। প্রতিটি সংস্থার নিজস্ব ইতিহাস, লক্ষ্য, কর্মসূচি, অর্জন ও শক্তিমত্তা রয়েছে। তাছাড়া সদস্যপদ ও ভৌগোলিক ক্ষেত্রেও পার্থক্য আছে। সার্ক যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, সেখানে বিমসটেক বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। তাই বিমসটেকের সঙ্গে সার্কের তুলনা করা ন্যায়সংগত নয়।’

বিমসটেকের কার্যকারিতা নিয়ে নিজেকে অত্যন্ত আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী উল্লেখ করে ইন্দ্র মনি পাণ্ডে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিমসটেককে সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে এটি একটি গতিশীল ও প্রাণবন্ত আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আমি নিশ্চিত যে আগামী সম্মেলন বিমসটেককে নতুন দিকনির্দেশনা ও গতি প্রদান করবে। বিমসটেক আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও গভীরতর করার ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে। বিমসটেকের সাতটি সদস্যদেশের পূর্ণ সমর্থন উপভোগ করছে, যারা একে সফল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলোকে সহযোগিতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্লাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের সদস্যদেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে বিমসটেক তার নির্ধারিত পথ ও লক্ষ্যের বাইরে যাবে না।’

বিমসটেক ঢাকা কার্যালয় জানিয়েছে, বিমসটেকের ১৫টি খাতভিত্তিক ব্যাপক কর্মসূচি রয়েছে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও গড়ে উঠেছে। এটি নিজস্ব চার্টার বা সনদ পেয়েছে এবং শিগগিরই নিজস্ব ভিশন ডকুমেন্ট ও নিয়মাবলি পাবে। সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের প্রতিশ্রুতি থাকায় প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের সমান মর্যাদা ও ভূমিকা নিশ্চিত হয়। প্রত্যেক সদস্যদেশকে নির্দিষ্ট একটি বা একাধিক খাতে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতায় সব সদস্যের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে।

বিমসটেক ঢাকা কার্যালয় জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব প্রদান সদস্যদেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক ইস্যু থেকে দূরে থাকার ঐতিহ্য সংস্থাটির আসল শক্তি, যা সদস্যদেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রেখে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সাহায্য করছে।

গত ১২ মার্চ বিমসটেকের ঢাকা কার্যালয়ে আসন্ন সামিট নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার, গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড বিমসটেক শীর্ষক উপস্থাপনা পেশ করেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তার গবেষণায় সংস্থাটির যে চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে বলা হয়, তার মধ্যে ছিল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ঘাটতি, সদস্যদেশগুলোর স্থায়ী প্রতিশ্রুতির অভাব, সনদ গ্রহণে দীর্ঘ বিলম্বের (২৫ বছর) ফলে সীমিত প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, স্বল্প আঞ্চলিক বাণিজ্য, অবকাঠামোগত ঘাটতি, সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন, যেমন বাংলাদেশ-মিয়ানমার, সম্পদের সীমাবদ্ধতা বা অপর্যাপ্ত তহবিলপ্রাপ্ত সচিবালয় ও দক্ষ জনবলের অভাব।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা প্রসঙ্গেও উল্লেখ ছিল সেলিম রায়হানের উপস্থাপনায়। সেখানে বলা হয়, ২০০৪ সালের কাঠামো থাকা সত্ত্বেও এফটিএ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয়নি। এফটিএর চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা নিয়ে বিরোধ, অশুল্ক বাধা, প্রতিরক্ষামূলক নীতি ও অর্থনীতিকে উদারীকরণে অনীহা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে বিমসটেক সম্মেলন শীর্ষক ব্রিফিং। সেখানে পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন বলেন, ‘এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এবারের ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন নতুন বাংলাদেশের জন্য বিমসটেকের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক অঙ্গনে নতুন পদচারণা। এবারের সম্মেলন আমাদের জন্য দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে উপস্থাপনের সুযোগ এনে দেবে। আমি বিশ্বাস করি, এবারের সম্মেলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য বিমসটেক সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় ও গভীর করবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে বিধায় এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও