পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় আরো জোরালো টিকাদান ও সক্রিয় নজরদারির সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাগল ভেড়ার ভাইরাসজনিত রোগ-পিপিআর রোগমুক্ত মর্যাদা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পিপিআর ও এফএমডির মতো সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, কোনো একক দেশের পক্ষে এসব রোগ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উন্নয়ন সহযোগী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে টেকসই অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা ও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা জরুরি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইতালির রোমে এফএও আয়োজিত ‘এফএও গ্লোবাল কনফারেন্স ফর অ্যাকশন্স অন ওয়ান হেলথ ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস’-এর সাইড ইভেন্টে ‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় আরো জোরালো টিকাদান ও সক্রিয় নজরদারির সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাগল ভেড়ার ভাইরাসজনিত রোগ-পিপিআর রোগমুক্ত মর্যাদা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ডব্লিউওএএইচ-এর বৈশ্বিক কৌশল এবং ২০২৪-২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ দেশব্যাপী ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নজরদারি কার্যক্রমে কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডব্লিউওএএইচ-এর কাছে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচির ডসিয়ার জমা দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে অনুসরণ করে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদে এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে। এরই মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং সপ্তম ধাপ চলমান রয়েছে। নিরাপদ ও টেকসই মাংস রফতানির ভিত্তি গড়ে তুলতে এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এফএও-এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ এফএমডির জন্য একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীরোগ প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়াবিষয়ক একটি ফিল্ড ম্যানুয়াল প্রণয়ন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল ২০২৫-২০২৮ এবং পিপিআর নির্মূলের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৮ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফএমডি'র এসএটি-১ সেরোটাইপের বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশে এখনো এ সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি, তবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, প্রাণীসম্পদের চলাচল, প্রাণীসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রাণীর বর্ধিত চলাচলের মাধ্যমে এর প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে।

প্যানেল আলোচনায় তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুইগুলু লামেক নচেম্বা, চাঁদের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদেরাহিম আওয়াত আবেইথ, ক্যামেরুনের প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাণী শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী তাইগা, নাইজেরিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা, মঙ্গোলিয়ার খাদ্য, কৃষি ও হালকা শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি জামবালসেরেন তুমুর-উয়া, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের ড. ওয়ার্কনেহ গেবেয়েহু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মার্টিন সেলমায়ারসহ অন্যরা অংশ নেন।

আরও