ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইনের পাত খুলে ফেলায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। গতি কম থাকায় রক্ষা পেয়েছে যাত্রীরা। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সালটিয়া মাঠখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১২ ঘণ্টা পর ট্রেনের লাইনচ্যুত ইঞ্জিনসহ দুই বগি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর বিকল্প পথে ট্রেন চলাচল করছে। কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গফরগাঁও স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ আলী জানান, রেললাইনের সংযোগস্থলের নাট খুলে প্রায় ২০ ফুট লম্বা লোহার পাত দুই পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে সরিয়ে রাখা হয়। এতে তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই স্থানে পৌঁছলে ইঞ্জিনসহ সামনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। অন্ধকার থাকায় লাইনের কাটা অংশটি চালকের নজরে আসেনি। তবে ট্রেনটির গতি কম থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়ে।
ময়মনসিংহ জিআরপির পরিদর্শক মো. আকতার হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটির উদ্ধারকাজ চলছে। বতর্মানে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে গতকাল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন ময়মনসিংহ স্টেশনে অবস্থান করে। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট হিসেবে গৌরীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব হয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ বন্ধ হয়ে পড়ায় ঢাকা-তারাকান্দি রুটের আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫ নং), তারাকান্দি-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৬ নং), দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৪ নং) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটের আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৮ নং) ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এসব ট্রেনের টিকিটের মূল্য ফেরত পেতে অনলাইনে লগইন করে রিফান্ড গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে রেলওয়ের পক্ষ থেকে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক শাহীনূর ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজ শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নাশকতার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।