পরিমিত ঘুম না হলে মানুষের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। এমনকি দেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চালকদের ঘুমজনিত সমস্যাকে দায়ী করা হয়। আজ বুধবার (১২ মার্চ) বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এ গোলটেবিল বৈঠকের উদ্দেশ্য জনগণকে সচেতন করা। ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যদি এসব রোগের সঠিক চিকিৎসা নেয়া যায়, তাহলে আমাদের কর্মক্ষেত্রেও সফলতা আসবে। আধুনিক জীবনযাত্রা ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ। এতে শারীরিক ক্ষতিও হয়। ঘুম ব্যাঘাত হলে ব্যক্তি, সমাজ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’
চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো— সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন। বিশ্বব্যাপী মানুষ ও চিকিৎসকদের মধ্যে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ও পরিমিত ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ঘুমের সময় সৃষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান ও ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। পরিমিত ঘুম না হলে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটে, কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, যা বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ ঘুমজনিত সমস্যা। বিশেষত মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ঘুমজনিত সমস্যা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৯ গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে অ্যাজমা ও সিওপিডি ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়।’
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘুমজনিত ৮০ ধরনের ডিজঅর্ডার রয়েছে। ইনসমনিয়া ও স্লিপ অ্যাপনিয়া সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। এসব রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া জরুরি। অনেক রোগী অভিযোগ করেন যে ঘুমের মধ্যে পায়ে ব্যথা হয় বা পা নাড়াতে পারেন না, যা অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণ হতে পারে। এছাড়া প্যারাসোমনিয়া রোগীদের মধ্যে ঘুমের মধ্যে হাঁটা বা খাওয়া-দাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। নারকোলেপ্সির কারণে ঘুমের চক্র ঠিকমতো কাজ করে না। যারা রাতের শিফটে কাজ করেন, তাদের ইনসমনিয়া বা হাইপার-ইনসমনিয়া হতে পারে।’
জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. হাসান জাফর রিফাত বলেন, ‘দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়, তবে অনেক সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। অ্যালার্জির কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। শিশুদের টনসিলের সমস্যা থাকলে ঘুমজনিত নানা জটিলতা দেখা দেয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রথম লক্ষণ হলো নাক ডাকা। কেউ নাক ডাকার সমস্যা নিয়ে এলে আমরা প্রথমে যাচাই করি, তিনি ঠিক কোন সমস্যায় ভুগছেন ও সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিই। এ রোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ঘুমের সমস্যার কারণে হার্ট ও ফুসফুসের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।’
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘নাক ডাকা মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়। এটি শনাক্তের জন্য স্লিপ টেস্ট করা জরুরি। স্লিপ টেস্টের মাধ্যমে দেখা হয়। রোগীর শ্বাস বন্ধ হচ্ছে কিনা বা অক্সিজেনের মাত্রা কমছে কিনা। অন্যান্য দেশে স্লিপ কেয়ার সেন্টার রয়েছে। আমাদের দেশেও এমন কেন্দ্র তৈরি করা প্রয়োজন।’
গোলটেবিল আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদুর রহমান খান, নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খোরশেদ মজুমদার, সংগঠনের কার্যকরী সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. আব্দুস শাকুর খান, ডা. আশরাফুল আলম খান, যুগ্ম সম্পাদক ডা. মামুনুর রশিদ, দপ্তর সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (সেলস) আশরাফ উদ্দিন আহমেদ।
গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন ডা. জিয়াউল করিম। এ আলোচনা সভার ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই, সায়েন্টিফিক পার্টনার ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনার ছিল বণিক বার্তা।