আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা চত্বরে কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন, নিহত ৭

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, খবর পেয়ে তাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাভার্ড ভ্যানে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়।

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানা চত্বরে কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।৷ এছাড়া আরো ২০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার বাউন্ডারির ভেতরে রাখা কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোডের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সৃষ্ট আগুনে সেখানে থাকা সিলিন্ডার ভর্তি আরো ছয়টি কাভার্ড ভানে আগুন লেগে যায়।

রাতে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ছয়জন নিহতের তথ্য জানান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আরেকজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়।

হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে গ্যাস সিলিন্ডারের আঘাতে কারখানার বাইরে এক নারী এবং কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে আরো পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া যায়।’ তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চারজনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত তিনজন হলেন মোখলেছুর রহমান (৪৫), তার ছেলে সুজন মিয়া (১৮) ও নুরুল ইসলাম (৪০)।’

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, খবর পেয়ে তাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাভার্ড ভ্যানে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এরপর আরো কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন আশপাশে থাকা আরো পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, কাভার্ড ভ্যানের ভেতর উদ্ধার মরদেহের মধ্যে একজন পুরুষ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে চার ইউনিট কাজ শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার পর থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তারা।

রাত সোয়া ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে এক নারী সিলিন্ডারের আঘাতে মারা যান। আর ক্যাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে আরো পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।’৷

আরও