তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ পাওয়া চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে (সিএমইসি) কাজের সুবিধার্থে সময় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত ডেডলাইন দেয়া হয়েছে। এর পরই জাতীয় গ্রিডে এ বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
গতকাল আমিনবাজার ল্যান্ডফিল পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। বিগত দিনে এ বিদ্যুৎ প্রকল্পের সময় ও রূপরেখা বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালের শেষভাগে কাজ শুরু করে ২০২৬ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও ভূমি অধিগ্রহণ, স্থান জটিলতা ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের কারণে প্রকল্পটি ধীরগতিতে চলে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কঠোর তদারকিতে এ জট খুলেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধাটি দূর হয়েছে। বিদ্যুৎ প্লান্টের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত ছাড়পত্র (ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট) পাওয়া গেছে। ফলে এখন আইনগত ও পরিবেশগত কোনো বাধা নেই।
চুক্তি অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএমইসি একটি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক বা আইপিপি হিসেবে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিগত দিনের সমীক্ষা অনুযায়ী, এ পাওয়ার প্লান্ট থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদে প্লান্টটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চুক্তিভিত্তিক মূল্যে সরাসরি ক্রয় করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এ প্রকল্পের সহযোগী মূল অংশীদার হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ একর জমি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল কাঁচামাল বা ‘বর্জ্য’ সরবরাহ করবে। প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার টন কঠিন বর্জ্য প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহ করতে হবে। এর মাধ্যমে একদিকে ঢাকার বর্জ্য সংকটের স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক সমাধান হবে, অন্যদিকে দূর হবে সাভারবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের অভিশাপ।
আমিনবাজার ল্যান্ডফিল পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।