তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধায় বেড়া নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে বিএসএফ।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুপুরে দুই দফায় পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় ভারতীয় বিএসএফ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪৫ নম্বরের ১ নম্বর সাবপিলারের কাছে ওই ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকার বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার হাড়িকামাত সীমান্ত এলাকা। সীমান্তের শূন্যরেখায় সোমবার দুপুরের দিকে প্রায় ৫০ গজ জায়গায় একসারি বিশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে সিমেন্টের তৈরি খুঁটি স্থাপন করতে থাকে বিএসএফ।
ভারতীয় সীমানার ১৫০ গজ থেকে প্রায় ৩০ গজ ছেড়ে তিন-চার ফুট উঁচু খুঁটি স্থাপন করতে থাকে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল। এ সময় বিজিবি কাজে বাধা দিলে বিএসএফের সদস্যরা তর্কে জড়ান। বিজিবির তীব্র বাধায় বিএসএফ সদস্যরা নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিকদের নিয়ে চলে যান।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আবারো একই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪৫ নম্বরের ১ নম্বর থেকে ২ নম্বর সাবপিলারের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী খেংটি এলাকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে থাকে। মঙ্গলবারও বিজিবি বাধা দেয়। বিএসএফ বাধা উপেক্ষা করে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালালে কঠোর অবস্থান নেয় পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল। পরে বেলা ১টার দিকে ঘটনাস্থলের ওই পিলারের কাছে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আলাউদ্দিন ও ভারতের পানিশালা কোম্পানির কমান্ড্যান্ট ইন্সপেক্টর শচীন রায় উভয় দেশের ছয়জন করে প্রতিনিধি দলের সদস্য নিয়ে অংশ নেন। বৈঠকে বিএসএফকে বেড়ার নির্মাণকাজ করা যাবে না বলে সাফ জানায় বিজিবি।
এ ব্যাপারে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত সোমবার ও মঙ্গলবার সীমান্ত পিলার ৮৪৫-এর ১ ও ২ সাবপিলারের সীমান্তে প্রায় ১০০ ও ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের পানিশালা-১ ক্যাম্পের সদস্যরা আগে স্থাপিত বাঁশের খুঁটি সরিয়ে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে। এতে আমাদের বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা স্থান ত্যাগ করে চলে যান। দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ইন্সপেকশন ও জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত উল্লেখিত স্থানে কোনো পিলার স্থাপন করা যাবে না।’