কলকাতায় বিস্ফোরণে নিহত ৯

ঘুম থেকে উঠে বন্ধুকে আর ফোন দেয়া হলো না বাবুর

সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৭)। স্থানীয় শাহীন সুপার মার্কেটে কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার মালামাল কিনতে গত সোমবার রাতে কলকাতায় যান। সেখানে একটি হোটেলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে আগুনের ঘটনায় মারা গেছেন তিনি।

গতকাল রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সবশেষ বন্ধু ফয়সালের সঙ্গে কথা হয় বাবুর। সেটিই ছিল তাদের শেষ কথোপকথন। বাবুর বন্ধু ফয়সাল বলেন, বাবু যাওয়ার আগে আমার দোকানে বসে ছিল। আমি তাকে এগিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দিই। সে তখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার কিছু আনতে হবে কিনা। আমি বলি, না, এখন আনব না, পরে আনাব। এরপর বাবু কলকাতায় যাওয়ার পর গত রাতে আমার সঙ্গে কথা হয়। তখন সাড়ে ১১টা বাজে। বাবু বলে, ও অনেক ক্লান্ত, সকালে ফোন দেবে। এরপর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ খবর পাই।

এরপর সকালে বিস্ফোরণে বাবুর মৃত্যুর খবর পান ফয়সালসহ স্বজন ও বন্ধুরা। এ খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ বুধবার বিকালে আমিনবাজারে বাবুদের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজন ও বন্ধুরা তাদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, বাবুর দুই সন্তান। মেয়ে এলিনা হাসান রোজা (৮) ও ছেলে সোয়াত (৫)। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে ‘বাবা, বাবা’ বলে কাঁদছিল রোজা। আর সোয়াত ছিল চুপচাপ। বাবুর বন্ধুরা তাকে আগলে রেখেছেন।

এদিকে বাবুর মৃত্যুর খবর যখন পরিবার পায়, সে সময় তার স্ত্রী গুলশানারা বুবলি চাকরির কারণে বাসার বাইরে ছিলেন। স্বজনরা আশঙ্কা করছিলেন, হঠাৎ স্বামীর মৃত্যুসংবাদ জানালে তিনি তা সহ্য করতে পারবেন না। তাই বাবু অসুস্থ হয়েছেন জানিয়ে তাকে দ্রুত বাড়িতে আসতে বলা হয়। বিকাল ৫টার দিকে আমিনবাজারের বাড়িতে এসে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

বাবুর প্রতিবেশী ও সম্পর্কে মামা ইব্রাহিম বলেন, আমরা একসঙ্গে ব্যবসা করতাম। আমারও বাবুর সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ও আমাকে বলল, মামা, এখন আপনি যাইয়েন না। পরিস্থিতি ভালো না, পরে ভিসা লাগান। এরপর শুনি বাবু কলকাতা গেছে। ও যাওয়ার আগে আমাকে জানায়নি। যদি জানাত, তাহলে আমিও যেতাম। আজ সকালে শুনি, বাবু আর নাই।

এখন পরিবারের সদস্যের বাবুর মরদহ আসার অপেক্ষায় আছেন। 

আরও