বনভূমি দখলমুক্তকরণ, বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গাজীপুরে পৃথক বন বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বন ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কার্যকর ক্ষমতা প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় গাজীপুরের জয়দেবপুর শহীদ নিয়ামত সড়কে শায়লা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠন দুটি।
গাজীপুর বন বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবির পক্ষে আয়োজকরা বলেন, বর্তমানে ঢাকা বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের কার্যালয় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত। অথচ এসব বিভাগের সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের বড় অংশ গাজীপুরে। ফলে গাজীপুরের বন ও পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা, আবেদন, যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাজে সেবাপ্রত্যাশীদের ঢাকায় গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়।
এতে সাধারণ মানুষ, বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, ভূমির মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবাপ্রত্যাশীর সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও সিইও মেহেদী হাসান বলেন, ঢাকা বন বিভাগের ভবিষ্যৎ কাঠামো কী হবে, সেটি আমাদের দাবির বিষয় নয়। আমাদের মূল দাবি হলো—গাজীপুর জেলার বনাঞ্চল ও বন প্রশাসনের জন্য পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করা। এটি হলে বন সংরক্ষণ, বনভূমি দখল প্রতিরোধ ও উদ্ধার, বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বন বিভাগের সমন্বয় আরো কার্যকর হবে।
গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলনের (গাপা) সভাপতি মোছাদ্দিকুর রহমান বলেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলসমৃদ্ধ জেলা। এ জেলার বনভূমি শুধু স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নয়, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু, জনস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বনভূমি জবরদখল, অবৈধ স্থাপনা, বন উজাড় ও বিভিন্ন ধরনের বন অপরাধের কারণে গাজীপুরের বন ও পরিবেশ ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে। শুধু আইন ও নীতিমালা থাকলেই বন রক্ষা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, দ্রুত আইন প্রয়োগ। এজন্য গাজীপুরে পৃথক বনবিভাগ প্রতিষ্ঠা জরুরি।
তাদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবিগুলো হল - সেবা সহজীকরণ এবং বন ও পরিবেশ সুরক্ষায়"গাজীপুর বন বিভাগ অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হব, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করে বন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করতে হবে, জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে, হয়রানিমূলক বন মামলা যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে, বন অপরাধে জড়িত সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলনের (গাপা) সভাপতি মোছাদ্দিকুর রহমান এবং জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও সিইও মেহেদী হাসান, গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) প্রধান উপদেষ্টা ফেডরিক মুকুল বিশ্বাস, নির্বাহী সহ-সভাপতি এনামুল হক, সহসভাপতি ইসমাইল মোল্যা, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।