দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল বেবিচকের সদর দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি বিমানবন্দরগুলোয় পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সব বিমানবন্দরের সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, ভেহিকল প্যাট্রোল, ফুট প্যাট্রোল বাড়ানোসহ মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরগুলোয় সর্বোচ্চ জনবল রাখা এবং সার্বিক ফায়ার সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া যায়।
দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং কক্সবাজার, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল ও সৈয়দপুরে পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে। এ বিমানবন্দরগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বেবিচকের। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিমানবন্দরগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে—কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, বিমানবন্দরে শুধু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে হবে, প্রবেশ ও প্রস্থানপথে সবারই নিরাপত্তা তল্লাশি করতে হবে, যাত্রী, কেবিন ব্যাগেজ, কার্গো ও যানবাহনের যথাযথ তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমানাপ্রাচীর এলাকায় নিয়মিত ও ঘন ঘন নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করতে হবে, নিরাপত্তা সরঞ্জাম (যেমন জ্যামার, ইডিএস, ইটিডি, মেটাল ডিটেক্টর, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি) প্রতিদিন পরীক্ষা করে তাদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে, দায়িত্ব পালনের আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে ব্রিফ করে সব সময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে হবে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে, গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করে অগ্নি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিমানবন্দরের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও সতর্কতা ২৪/৭ সক্রিয় রাখতে হবে।
গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৭ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ওই ঘটনায় কেপিআইভুক্ত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর তিন সপ্তাহ পর গত ৬ নভেম্বর ভোরে কার্গো কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় আট নম্বর হ্যাঙ্গার গেটে ১৫টি মোবাইল ফোনসহ আটক হন সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্য জেনারুল ইসলাম। এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার মধ্যে তিনদিন ধরে দেশে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে যানবাহনে আগুন ও বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সব মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য চিঠি দেয়ার কথা বলেছেন বেবিচক কর্মকর্তারা।
সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জনস্বার্থে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বেবিচক সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেশের সব বিমানবন্দরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’