কুিমল্লায় প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশ থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন দেশেই এই ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘দেশীয় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু, এতে ক্ষতি কমবে খামারিদের।’

গতকাল কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাহ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আয়োজনে বিএলআরআই উদ্ভাবিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশে লাম্পি স্কিন ডিজিজ এবং গোটপক্সের প্রাদুর্ভাবের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তায় এ ক্যাম্পেইনের আওতায় দুই হাজার ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন ও ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন উপজেলার গবাদিপশুতে প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, ‘গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এলএসডি ছড়িয়ে পড়লে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ভাইরাল এলএসডি ভ্যাকসিন এ রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাজারজাত হলে খামারিদের ব্যয় কমবে, সহজলভ্যতা বাড়বে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরো টেকসই হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশ থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন দেশেই এই ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে নতুন উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ঘাস চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএলআরআই উদ্ভাবিত নতুন ঘাসের জাতটিতে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এ ঘাস চাষ করলে খামারিরা কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন এবং দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এর আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণন সহায়তা দেয়া হবে। আর নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

আরও