প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। গণতন্ত্রকামী শক্তির মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ তৈরি হলে এর সুযোগ নেবে পতিত ফ্যাসিস্টরা। গণতন্ত্রকামী শক্তির মধ্যে বিভেদ-বিরোধ পতিত ফ্যাসিস্টকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। সেই পথকেই হয়তো সুগম করতে পারে। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।’
গতকাল জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিন্নমত থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি দলই বলি আর বিরোধী দলই বলি—আসুন আমরা সবাই মিলে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি।’
দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে সরকার সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। কোনো অজুহাত দেখিয়ে জনগণের সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট নিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করা হলে যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের কষ্ট বাড়বে। এতে শেষ পর্যন্ত পতিত ফ্যাসিস্টরাই লাভবান হবে। বিরোধী দলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে। গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’
গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক যুগের বেশি সময় বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস আহরণের চেষ্টা করা হয়নি।’ কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা পালিয়ে গেছে, কিন্তু জনগণের কাঁধে ঋণ রেখে গেছে।’ বর্তমান সরকারের সময়ে ঋণখেলাপির পরিমাণ কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। ঋণখেলাপির কলঙ্ক থেকে বিএনপি বাংলাদেশকে মুক্ত করবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত পাঁচ মাসে সরকার বিদেশী ঋণের বিপরীতে ৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
সরকারের সামনে থাকা বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি খাতেই অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এসব সমস্যাকে সরকার অজুহাত হিসেবে নিতে চায় না। এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, যাতে জনজীবনে শান্তি ফিরে আসে।’
দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা অবাধ রয়েছে। তবে এ স্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সরকার জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সংসদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চাই। এক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষেরই সদিচ্ছার অভাব নেই। জাতির কল্যাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’