দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণকাজ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব, কভিড-১৯-এর প্রভাব, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনা ও নির্মাণপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে না পারায় পুরনো জীর্ণ ভবনে কোনো রকমে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন হাসপাতালের পুরনো ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়া, চিকিৎসকদের চেম্বার সংকট, শয্যা সংকটসহ নানা সমস্যা থেকে দ্রুতই মুক্তি মিলছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্মাণাধীন ছয়তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনটির কাজ শেষ করে তা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রান্তিক জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফুলগাজী উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করে সরকার। পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা ও সেবাগ্রহীতাদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সেবা কেন্দ্রের অবকাঠামোসহ নানা সমস্যা শুরু হতে থাকে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে হাসপাতালটির জন্য ছয়তলা একটি ভবন অনুমোদন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য নতুন ভবন নির্মাণকাজ পায় এমএস ডালি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি মোতাবেক ২০১৮ সালে কাজ শুরু করে ২০১৯ সালেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাঁচবার মেয়াদ বাড়িয়েও ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত নতুন ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবনটির কাজ শেষে হস্তান্তর করতে না পারায় পুরনো ভবনে স্বাস্থ্যসেবা সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।
সরজমিন দেখা যায়, হাসপাতালটির ছয়তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের কাজ প্রায় শেষ প্রান্তে। এখন লিফট, বিদ্যুৎ ও রঙের কাজ চলছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিক কম থাকায় কাজের ধীরগতি এখনো রয়ে গেছে। চলতি বছরেই ভবনটি হস্তান্তরের তাগাদা নিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ‘৩১ শয্যা উপজেলা হাসপাতালটি রোগীদের চাপ নিতে না পারায় এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এরই আলোকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয়তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি মোতাবেক ২০১৯ সালে এটি হস্তান্তর করার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তা হস্তান্তর করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত পাঁচবার কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে এবার ষষ্ঠবার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় পুরনো ভবনে বিড়ম্বনার শেষ নেই। বৃষ্টি হলে দেয়াল চুইয়ে পানি পড়া, পলেস্তারা খসে পড়া, গাদাগাদি করে আবাসিক রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ডাক্তার চেম্বার সংকটসহ বহু ক্ষেত্রে সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।’
তবে এমএস ডালি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের দায়িত্বরত প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, বর্তমানে ভবনের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরে ভবনটি বুঝিয়ে দিতে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর করোনার কারণে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে দফায় দফায় মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজের গতি কমে যায়।’ তবে ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক চেষ্টার কমতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে বারবার সময় বাড়িয়েও ভবনটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের এক সভায় কাজটি দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। আশা করি, চলতি বছরের শেষের দিকে ভবনটিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম চালু করা যাবে। নতুন ভবনে সেবাদান শুরু হলে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক সমস্যা কমে যাবে।’