নিয়ম মেনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করেন ৫ শতাংশ মানুষ, বাকি ৯৫ শতাংশই বাধ্য হয়ে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, সর্বশেষ ২০২২ সালের আদমশুমারিতে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি হলেও জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৫ কোটি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশে নিয়ম মেনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেন ৫ শতাংশ মানুষ, বাকি ৯৫ শতাংশই করেন বাধ্য হয়ে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬-উপলক্ষে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

'নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন' প্রতিপাদ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।

মাঠপর্যায়ের নিবন্ধনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঁচ-ছয় বছর বয়সে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে গিয়ে অথবা ১৮ বছর বয়সে এনআইডি করতে গিয়ে মানুষ নিবন্ধনের জন্য ছোটেন। আর জমিজমার আইনি প্রয়োজন ছাড়া মৃত্যু নিবন্ধন প্রায় কেউ করেনই না।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ড. মিখাল ক্রেজা এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে তথ্যের এ বড় ধরনের বিভ্রান্তি দূর না করলে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সঠিক জনসংখ্যা জানা না থাকলে চালের খাদ্য চাহিদা, শিশুপুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি কীভাবে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব?”

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, সর্বশেষ ২০২২ সালের আদমশুমারিতে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি হলেও জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৫ কোটি। ২০১০ সালে ম্যানুয়াল তথ্য ডিজিটালাইজেশনের সময় প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে অতিরিক্ত ৩-৪ কোটি ভুয়া এন্ট্রি যুক্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার ঘোষিত ওয়ান ‘সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে এ দিকটা সমাধান করতে হবে।

এছাড়াও মাঠপর্যায়ের অনিয়ম বন্ধ ও নিবন্ধকদের সমস্যা সরাসরি শুনতে আগামী ডিসেম্বরে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ঢাকায় এনে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন এবং ১৯৮০ ও ২০০৩ সালের আইনকে সমন্বিত করে পুনরায় ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ এবং সনদ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি নিবন্ধন কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে নির্ভুল নিবন্ধনের গুরুত্ব এবং মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আরও