দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে অস্থিরতা চলছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে পরিবেশক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে নির্ধারিতের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দাম পুনর্নির্ধারণের আগে বিক্রয় ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। তাদের এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
বিইআরসির গতকালের গণশুনানিতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। শুনানিতে আমদানিকারকদের বর্তমান কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০-৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাব এসেছে ১১ টাকা করার।
বেসরকারি এলপিজি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদন গণশুনানিতে উপস্থাপন করে। এতে বিক্রয় ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ও রিটেইলার চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি মজুদ ও বোতলজাতের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির মজুদ ও বোতলজাতের ব্যয় প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ব্যয় হিসাবের ক্ষেত্রে কারখানা পরিচালনা, শ্রমিকদের মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন এবং বিনিয়োগ করা মূলধনের ওপর নির্ধারিত মুনাফা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
বিইআরসির নিয়ম অনুযায়ী, গণশুনানিতে উত্থাপিত প্রস্তাব, সুপারিশ ও মতামত পর্যালোচনা করে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন দাম ঘোষণা করার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নভেম্বরের শুরুতেই নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে কমিশন।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সে সময় প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ৮৪২ টাকা এবং সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯১৩ টাকা। এছাড়া ১৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৭৫৫ টাকা এবং ২০ কেজির ৩ হাজার ৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বড় সিলিন্ডারের মধ্যে ২২ কেজির দাম ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৮২৭, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৫৯২, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ৫১, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৩৫৭ এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।