আজিমপুরে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে ৮৩৬ ফ্ল্যাট

একনেকে উঠছে আজ

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা দিতে এবার ৭৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে সরকার।

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা দিতে এবার ৭৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আজিমপুরের সরকারি কলোনিতে ১১টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে থাকছে ৮৩৬টি ফ্ল্যাট, সার্ভিস ভবন, মসজিদ, মাল্টিপারপাস ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি আমলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুশি করতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালে অনেকগুলো উচ্চবিলাসী প্রকল্প অনুমোদন পায় গত ১৬ বছরে। এবারো এমন প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারও একই পথে হাঁটছে কিনা, সে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরে কর্মরত সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি করতে প্রকল্পটি নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে। প্রকল্পটি ঢাকা আজিমপুরের সরকারি কোয়ার্টারের জোন-সিতে ৯ দশমিক ২৬ একর জমির ওপর ৩২টি পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে করা হবে। ১১টি ভবনে থাকবে মোট ৮৩৬টি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি ছয়তলা ভবন, এ ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১০০০ বর্গফুট। এছাড়া ৮০০ বর্গফুটের ২০তলা বিশিষ্ট আরো পাঁচটি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। প্রকল্পের আওতায় থাকছে ছয়তলাবিশিষ্ট সার্ভিস ভবন, ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি ছয়তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন ও ছয়তলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রাস্তা, পার্কিং, মাস্টার ড্রেন, অগ্নিনির্বাপক, স্বতন্ত্র সাব স্টেশন, ৩৭টি লিফট, ১৪টি জরুরি জেনারেটর, ফায়ার প্রটেকশনসহ প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা।

প্রকল্প আওতায় খরচের মধ্যে ম্যাটেরিয়াল টেস্টিংয়ে ১২০ কোটি, ডেসকো কানেকশন চার্জ ১০৯ কোটি, ওয়াসা চার্জ ১৪০ কোটি, কর্মকর্তাদের ভাতা বাবদ ২১৭ কোটি, মাটি পরীক্ষার জন্য ৪১ কোটি, বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের সম্মানী বাবদ ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‌সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য যে আলিশান ফ্ল্যাট প্রকল্প নেয়া হয়েছে সেখানেই অনেকে থাকেন না। অফিসের কর্মচারীদের দিয়ে দেন। আবার আজিমপুরের ফ্ল্যাটগুলোয় অনেকে সাবলেট ভাড়া দেন। অনেক প্রকল্প নেয়া হয় যৌক্তিকতা যাচাই না করে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ বলেন, ‘‌এবারের প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে ১১-২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য। এখানে যে জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে সে ভবনগুলো ৬০-এর দশকের পুরনো সেজন্য এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আর কারা ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাবে সেটা আবাসন পরিদপ্তর নির্ধারণ করবে।’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর টিকে থাকতে আমলাতন্ত্রকে ব্যবহার করার ব্যাপক অভিযোগ ছিল। আমলা ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুশি করতে হাজার হাজার কোটি টাকার আবাসন ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়েছে ও সে সময়ে। শেখ হাসিনার সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে। কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি প্রকল্পের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট, মিরপুরে ২৮৮টি, মালিবাগে ৪৫৬টি, মতিঝিলে ৩৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আরো ৮ হাজার ৮৩৫টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করারও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এছাড়া পতনের ঠিক আগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের কর্মকর্তাদের জন্য ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় হাজারেরও বেশি আলিশান ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

আরও