কৃষিতে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নানা রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মৌমাছি। বিশ্বব্যাপী নানা প্রজাতির মৌমাছি বিলুপ্তির হার বেড়ে যাওয়ায় পরাগায়নকারী পতঙ্গের অস্তিত্ব কমে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিগত ভারসাম্য বিপন্ন হতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিশ্ব মৌমাছি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিসউক), পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ, বগুড়া), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিসেফ ফাউন্ডেশন ও নর্থ বেঙ্গল হানি কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশকে বাসযোগ্য করে রাখার জন্য মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরাগায়ন কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যাবশ্যক। কারণ এটি বিশ্বের ৭৫ শতাংশেরও বেশি শস্য উৎপাদনকে সহায়তা করে, যার মধ্যে ফল, সবজি, বাদাম ও বীজ অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বে ২০ হাজারের বেশি প্রজাতির পরাগায়নকারী মৌমাছি ফসলের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্যের গুণমান ও বৈচিত্র্যও উন্নত করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মৌমাছিরা আজ হুমকির মুখে। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে প্রজাতি বিলুপ্তির হার স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ থেকে ১ হাজার গুণ বেশি। এ প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে পুষ্টিকর ফসল ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্রমেই বৈচিত্র্য হারিয়ে প্রধান কয়েকটি খাদ্যশস্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। যার ফলে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে।
মৌমাছির সংখ্যা কমে আসার প্রভাব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, কীটনাশকের ব্যবহার, নিবিড় কৃষি কার্যক্রম, ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তন, একফসলি চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তন—সবকিছুই মৌমাছির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে আমাদের খাদ্যের মান ও পরিমাণের ওপর। পৃথিবীতে মৌমাছিসহ অন্যান্য পরাগায়নকারী পতঙ্গ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমের (শিসউক) নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. জয়নুল আবেদীন, বাপার সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ উপস্থিত বক্তারা খাদ্যচক্রে মৌমাছির উপকারিতা ও এর জীবনচক্রে কীটনাশকের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন।