রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ছড়ায় সেতুর অভাবে দুর্ভোগ

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর ইউনিয়নে রয়েছে তৈ-চাকমা ছড়া। পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে নানিয়ারচর উপজেলা সদরে যেতে হলে ছড়াটি পার হতে হয়। তবে পাহাড়ি এ ছড়ায় সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। যদিও যাতায়াতের সুবিধার্থে ছড়ার ওপর চারটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে রাঙ্গিপাড়া যুব কজমা ক্লাব। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর ইউনিয়নে রয়েছে তৈ-চাকমা ছড়া। পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে নানিয়ারচর উপজেলা সদরে যেতে হলে ছড়াটি পার হতে হয়। তবে পাহাড়ি এ ছড়ায় সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। যদিও যাতায়াতের সুবিধার্থে ছড়ার ওপর চারটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে রাঙ্গিপাড়া যুব কজমা ক্লাব। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।

শিক্ষার্থী হিমা চাকমা ও অর্ন্বেষা চাকমা বলেন, ‘বর্ষাকালে স্কুল-কলেজে যেতে বেশি কষ্ট হয়। ছড়ায় পানির স্রোত থাকায় পা পিছলে পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সাঁকো তৈরি করায় দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।’

রাঙ্গিপাড়া যুব কজমা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ইমন চাকমা ও সভাপতি রনা বিকাশ চাকমা বলেন, ‘আমরা ক্লাব সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাঁকোটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রামের এক বাসিন্দা আমাদের সব বাঁশ দিয়েছেন বিনামূল্যে। এছাড়া বিভিন্নজন সহযোগিতা করছেন। সাঁকো তৈরি হওয়ায় গ্রামের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে কয়েক বছর আগে তৈ-চাকমা ছড়ায় সরকারি উদ্যোগে ছোট একটি সেতু করা হলেও সেটি ভেঙে গেছে। টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা না গেলে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে না।’

নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ক্লাবটির উপদেষ্টা উদাস চাকমা বলেন, ‘তৈ-চাকমা ছড়াটি চেঙ্গী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছড়ায় পানির ঢল নামে। তখন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এক পাশে চেঙ্গী নদী; আরেক দিকে ছড়ার কারণে গ্রামবাসী পানিবন্দি। তখন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেন না, শিক্ষকরাও আসতে না পারায় বিদ্যালয় বন্ধ থাকে।’

পদ্মসুর চাকমা বলেন, ‘গ্রামের শিক্ষার্থীরা তৈ-চাকমা হেডম্যানপাড়া জুনিয়র হাইস্কুল ও হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। পাহাড়ের এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। হাঁটা-চলা করার মতো এখনো কোনো ভালো রাস্তা নেই। পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পাঁচটি গ্রামসহ আশপাশের মানুষকে বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়।’

নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পী চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপজেলাটির মধ্যে নানিয়ারচর সদর ইউনিয়ন দুর্গম এলাকা। এখানে এমন কিছু দুর্গম এলাকা আছে, যেখানে কেবল হেঁটে চলার রাস্তা রয়েছে। রাঙ্গিপাড়ার মাঝ দিয়ে একটি ছড়া প্রবাহিত হওয়ায় মূল সড়ক থেকে এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন। এ রাস্তাগুলো তৈরি করা জরুরি।’


আরও