১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ধর্মঘটের হুমকি

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট যা গেজেট আকারে প্রকাশ করা; সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল করা। কারণ, প্রবেশদ্বার ব্যবহারকারীরা সব যানবাহন সরকারের নিয়মমাফিক কর প্রদান করেন; ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপত্র বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করা; মালিক কর্তৃক প্রিমিয়াম পরিশোধ স্বাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান; প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সকল জ্বালানি ডিপো সংলগ্ন ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য পর্যপ্ত শৌচাগার ও বিশ্রামাগার নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান রতন। তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি কর্তৃপক্ষ একক সিদ্ধান্তে বিবেচনাহীনভাবে জ্বালানি তেল বিক্রয়ের উপর কমিশন লিটার প্রতি মাত্র দশমিক ২০ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। যেখানে আমরা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অনেক আগে থেকেই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি, সর্বোপরি উর্দ্ধমূল্যের বাজারে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে জ্বালানি তেল বিক্রয়ের ওপর কমিশন ১ টাকা ৬০ পয়সা বৃদ্ধি করার জন্য দাবি করে আসছি। সেখানে সরকার গত বছরের ৪ নভেম্বর ডিজেলের মূল্য এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করলেও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের জন্য কোনোরুপ কমিশন বৃদ্ধি করেনি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি বিপিসির ডাকা মিটিংয়ে আমাদেরকে একটি সম্মানজনক কমিশনের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু কার্যত দুঃখজনকভাবে বিপিসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এসব তেল ব্যবসায়ীদের প্রতি চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে। জ্বালানি তেল বিক্রয়ে তাদের লোকসান ঠেকাতে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। অথচ, যাদের মাধ্যমে এই পুরো তেল বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তাদের ব্যবসার প্রতি বিন্দুমাত্র সুবিচার করা হয়নি। ফলে সকল জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীগণ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পই প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার লিটারের নিচে ডিজেল বিক্রি করে থাকে। ফলে দশমিক ২০ পয়সা দিয়ে গড়ে তাদের মাসিক ১২ হাজার টাকা আয় বৃদ্ধি পায়। যা দিয়ে অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ এবং সকল বৃদ্ধি পাওয়া খরচ চালানো একেবারে দূরুহ হয়ে পড়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন আরো বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি সকল বিভাগীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় তেল উত্তোলন, বিপণন ও পরিবহন বন্ধ রেখে কঠোর কর্মবিরতি পালনের মত কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বর্তমানে জ্বালানি তেল বিক্রিতে ২.৯২ শতাংশ কমিশন পাচ্ছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল, সহ-সভাপতি মো. এম. এ মোমিন দুলালসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও