বাগেরহাটের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাওয়াদ ইসলাম (ছদ্মনাম)। বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বিকালে কোচিং, এরপর সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে হয় তাকে। পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা সামনে রেখে পড়াশোনার চাপ আরো বেড়েছে।
জাওয়াদের মা জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, বিদ্যালয়ের পড়াশোনা যথেষ্ট মনে হয় না। আবার আশপাশের প্রায় সব শিক্ষার্থীই স্কুলের বাইরে প্রাইভেট বা কোচিং করছে। ফলে সন্তানকে শুধু বিদ্যালয়ের পড়ার ওপর নির্ভর করিয়ে রাখলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভালো ফলের প্রত্যাশায় স্কুলে ভর্তির পর থেকেই প্রাইভেট টিউটর রেখেছেন। এখন বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোচিংও।
জান্নাতুল ফেরদৌসীর মতো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই এখন বিদ্যালয়ের বাইরে বাড়তি শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), ইউনিসেফ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। ‘স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (এসএলআইপি)’ শীর্ষক সেই মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ের ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভর করছে। সে তথ্য মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক। শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ হার আরো বেশি।
শিক্ষার্থীদের টিউশন নির্ভরতার ব্যাপ্তিও বেশ বিস্তৃত। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে প্রাইভেট পড়ে। একক বিষয়ের ক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিত, ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ ইংরেজি ও ৬ দশমিক ২ শতাংশ বাংলা বিষয়ে গৃহশিক্ষকের সহায়তা নেয়।
অভিভাবকদের প্রাইভেট টিউশনমুখী হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভালো ফলের প্রত্যাশা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ অভিভাবক সন্তানকে ভালো একাডেমিক ফল করানোর জন্য টিউশনে দেন। একাডেমিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য টিউশন করান ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। শ্রেণীকক্ষের পাঠদান পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ অভিভাবক। অন্যদের দেখাদেখি বা সামাজিক প্রভাবের কারণে সন্তানকে টিউশনে দেন ৯ শতাংশ। বাকি ৪ দশমিক ৪ শতাংশের কারণ বিভিন্ন।
ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মা আলহামরা পারভীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সামর্থ্য আছে এমন প্রায় সব অভিভাবকই এখন সন্তানকে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ঢাকার সেন্ট যোসেফ ও রেসিডেয়াল মডেল স্কুলে ভর্তির প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে অনেক শিশুর কোচিং শুরু হয় প্রাথমিকের প্রথম দিকেই। পরে শ্রেণী যত ওপরে ওঠে, কোচিং নির্ভরতাও তত বাড়ে।’
অভিভাবকদের অনেকেরই এ প্রবণতা পছন্দ নয়। কিন্তু বাস্তবতা এমন যে শিক্ষার্থীদের একটি বড় সময় ক্লাস, কোচিং ও প্রাইভেট টিউটরের পেছনে চলে যাচ্ছে। এতে খেলাধুলা, বই পড়া এবং সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ কমছে। সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশে এটি উদ্বেগের কারণ হলেও সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার চাপে অভিভাবকরাও এতে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ। সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক, সর্বজনীন ও একমুখী শিক্ষা নিশ্চিতের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হলেও প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই পড়ছেন বেসরকারি বিদ্যালয়ে। আবার সরকারি বিদ্যালয়গুলোয়ও শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাবসহ নানা কারণে শ্রেণীকক্ষের পাঠদান সন্তোষজনক নয়। ফলে অভিভাবকদের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রাইভেট ও কোচিং নির্ভরতা মূলত দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া আস্থার সংকটের ফল। বিদ্যালয়ের ভেতরে কাঙ্ক্ষিত লেখাপড়া না হওয়ায় অভিভাবকরা বিকল্প খুঁজছেন। এ সংকট তৈরিতে শিক্ষা প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দায় রয়েছে। কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের দিকে ঠেলে দেন এবং এটিকে আয়ের পথ হিসেবে ব্যবহার করেন। কোচিং ব্যবসাকে আদালতও একসময় “ব্যাধি” হিসেবে চিহ্নিত করে শিক্ষকদের বাইরে পড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি।’
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘এ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে বৈষম্যে। যেসব অভিভাবকের সামর্থ্য আছে তারা সন্তানকে প্রাইভেট ও কোচিংয়ে দিতে পারছেন; যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের সন্তান শিখন ঘাটতি নিয়েই পরবর্তী শ্রেণীতে উঠছে। ফলে প্রাথমিক স্তর থেকেই অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।’
শ্রেণীকক্ষের পাঠদানের দুর্বলতার চিত্র বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়নেও উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী ৫১ শতাংশ শিশু বয়স উপযোগী সাধারণ বাংলা-ইংরেজি লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে না। একই সঙ্গে শ্রেণী উপযোগী গাণিতিক দক্ষতা অর্জনেও বড় ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ২০২২-এর ফলেও প্রাথমিক পর্যায়ের শিখন ঘাটতির একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রাইভেট টিউশন নির্ভরতার পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করছে। প্রথমত, অভিভাবকদের ধারণা—শ্রেণীকক্ষে যতটুকু শেখানো হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, শ্রেণী পার হচ্ছে, কিন্তু তার প্রকৃত শিখন হচ্ছে না। স্কুলিং ও লার্নিংয়ের এ ব্যবধানই টিউশনের চাহিদা তৈরি করছে। দ্বিতীয় কারণ সামাজিক প্রভাব। সমাজে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে প্রাইভেট টিউশন ছাড়া পরবর্তী ধাপে ভালো করা সম্ভব নয়। একজনকে দেখে অন্যজনও একই পথে যাচ্ছে।’ দ্বিতীয় প্রবণতাকে তিনি ‘ডেমনেস্ট্রেশন ইফেক্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান আরো বলেন, ‘টিউশন-নির্ভরতা কমাতে হলে প্রথম কাজ হতে হবে শ্রেণীকক্ষের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি শক্তিশালী করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে অনেক সময় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিসহ স্থানীয় পর্যায়ের কাঠামোও শিক্ষার পরিবেশে বাধা তৈরি করে। আবার শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী হলেও বিদ্যালয়গুলোতে সেই সুযোগ সীমিত। ফলে শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফলের মধ্যে আটকে না রেখে সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’
শিক্ষকদের দক্ষতার ক্ষেত্রেও রয়েছে ঘাটতি। গত বছর জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিজিটাল শিক্ষা ও একুশ শতকের দক্ষতা প্রয়োগে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পিছিয়ে রয়েছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক নিজেদের এ দক্ষতায় সক্ষম মনে করলেও বাস্তবে শ্রেণীকক্ষে তা প্রয়োগ করতে পারছেন মাত্র এক-চতুর্থাংশ। আট বিভাগের ১৬টি উপজেলার ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষকের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’
বিদ্যালয়ে ভালোভাবে পড়ানো হয় না, এমন সাধারণীকরণের সঙ্গে তিনি একমত নন। এ শিক্ষক বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয় তা বাড়িতে অভিভাবকরা তদারকি করলে এবং শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ করতে সহযোগিতা করলে ভালো ফল সম্ভব। কিন্তু অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রাইভেট টিউশন ছাড়া ভালো ফল সম্ভব নয়, এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।’ এ অবস্থায় প্রাইভেট টিউশন-নির্ভরতা কমাতে সরকার, শিক্ষক ও অভিভাবক—তিন পক্ষেরই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পেছনে পরিবারের ব্যয়ের একটি বড় অংশও এখন চলে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষায়। এসএলআইপি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা বাবদ পরিবারকে মাসে গড়ে অন্তত ১ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যয় করতে হয়। এর উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হয় প্রাইভেট টিউশন ও গৃহশিক্ষকের পেছনে।
অন্যদিকে প্রাইভেট ও কোচিংকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় একটি অর্থনৈতিক পরিসর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরিপ ২০২৪’ অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত কোচিং সেন্টারের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৭টি। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩১২টি বা ৯৫ দশমিক ৮২ শতাংশ একাডেমিক কোচিং সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও চাকরির প্রস্তুতিমূলক কোচিং রয়েছে ২৭৫টি। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমেও ব্যক্তিগত টিউশনের বিস্তার ঘটছে। এসব প্লাটফর্মে শিক্ষক খোঁজার পাশাপাশি টিউশনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি এক কর্মশালায় প্রাইভেট টিউশনকে ‘মহামারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষে রেমিডিয়াল এডুকেশন বা শিখন ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় প্রাইভেট টিউশন সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে।’
নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার দুই সন্তানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা শিক্ষক রাখতে হচ্ছে। এর পেছনে মূলত কাজ করছে সামাজিক চাপ। অনেকের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে প্রতিটি বিষয়ে গৃহশিক্ষক না রাখলে সন্তানকে ঠিকভাবে গড়ে তোলা যাচ্ছে না।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। ফাউন্ডেশনাল লার্নিং নিশ্চিত করা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষার্থীর অগ্রগতি প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ, শিক্ষক নীতিমালা যুগোপযোগী করা এবং তদারকি ও মনিটরিং জোরদারের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার সামনে এখন শুধু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রশ্ন নয়; বড় প্রশ্ন হচ্ছে—বিদ্যালয়ে যে সময়টি শিশু দিচ্ছে, সেখানে সে আসলে কতটা শিখছে। শ্রেণীকক্ষ যদি সেই শিখন নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকা পরিবারগুলো সন্তানকে টিউশনের দিকে ঠেলে দেবে, আর সামর্থ্যহীন পরিবারগুলোর সন্তান পিছিয়ে পড়বে। প্রাথমিক স্তরেই তৈরি হবে শিক্ষার সুযোগের নতুন বৈষম্য। তাই বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট দূর, মনিটরিং ও জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিখন নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের টিউশন-নির্ভরতা হ্রাস এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রাথমিকে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস পদ্ধতিতে শিক্ষাদান শুরু হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি বিদ্যালয়মুখী হবে এবং আরো ভালোভাবে শিখতে পারবে। এছাড়া, মিড-ডে মিল চালু করা হচ্ছে, আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতেদ শিক্ষকদের ওয়ান ট্যাব ওয়ান টিচার প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সচিব জেসমিন নাহার আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি যেন না থাকে যে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই সরকার নিচ্ছে। হয়তো রাতারাতি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে না, তবে শিগগিরই ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’