এছাড়া গাছটি ভূমিক্ষয়, ভূমিধস, ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরাশক্তি রক্ষা করে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মেহেরপুরের গাংনীতে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয় অসংখ্য তালগাছ। তবে রেড পাম উইভিলের (গুবরে পোকা) আক্রমণে মারা যাচ্ছে শত শত তালগাছ। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০টি গাছ মারা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাজার হাজার তালগাছ মারা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের ধারে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা গাছগুলো কয়েক বছর ধরে বেড়ে উঠছিল। তবে সম্প্রতি গাছের কাণ্ড ও গোড়ায় লাল, কালো ও সাদা রঙের পোকা দেখা যাচ্ছে। আক্রান্ত গাছের ভেতরের অংশ ঝুরঝুরে ময়দার মতো হয়ে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
বৃক্ষপ্রেমী ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন বলেন, ‘দুই-তিন মাস আগে থেকে দুই-একটি গাছ মারা যেতে দেখি। কারণ বুঝতে না পেরে কৃষি অফিস ও বন বিভাগে যোগাযোগ করা হয়। এখন দেখি তিন ধরনের পোকা গাছে আক্রমণ করছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ২০০-৩০০ গাছ মারা গেছে। গাছগুলো বড় করতে অনেক পরিশ্রম করেছি। নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি সময় দিয়েছি। এখন বিশেষজ্ঞদের হস্তক্ষেপ দরকার।’
স্থানীয় কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘তালগাছ আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তালের রস, শাঁস, পাকা তাল—সবই মানুষের উপকারে আসে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা করে। কিন্তু হঠাৎ করে গাছ মরে যাচ্ছে, কারণ বুঝতে পারছি না।’
এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘রেড পাম উইভিল মূলত চার থেকে ছয় বছর বয়সী গাছকে আক্রমণ করে। গাছের ভেতরের নরম অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে ধীরে ধীরে গাছ মারা যায়। আমরা খোঁজখবর নিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছি। এর প্রতিকার রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মেহেরপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিম হায়দার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তালগাছ সাধারণত ছোটখাটো কারণে মারা যায় না। ঠিক কী ঘটেছে তা সরজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতীতে কয়েক জায়গায় বিষ প্রয়োগের কারণে গাছ মারা গিয়েছিল, আমরা সেগুলো সমাধান করেছি। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেয়া হবে।’