বিরোধী দলকে দমনের জন্য নির্যাতনের সৃজনশীল পদ্ধতি আওয়ামী লীগ আবিষ্কার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে যুবদল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা তারা (আওয়ামী লীগ) নিঃসন্দেহে নতুন একটা সৃজনশীল পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে যে কী করে নির্যাতন করা যায়, নিপীড়ন করা যায়, বিরোধী দলকে দমন করে রাখা যায়। ১২/১৪ বছর ধরে এ কাজটা (নতুন পদ্ধতির) তারা (সরকার) করছে। ২০১৩ সাল থেকে শুরু করেছিল গুম করে দেয়া। ইলিয়াস আলীকে করেছে, চৌধুরী আলমকে করেছে। হাজারো মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে, থানায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে, পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। আমি বারবার বলেছি—আপনারা মানুষের ভাষা বুঝতে পারছেন না, আপনারা দেয়ালের লিখন দেখতে পারছেন না। দয়া করে মানুষের চোখের ভাষা বুঝুন, দেয়ালের লিখন দেখুন।’
মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন কল্পনা করতে পারেন কোনো একটি গণতান্ত্রিক দলের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা! এটাও তারা করেছে। একদিকে ভালো যে যারা মামলাগুলো দেয় তাদের কাছে একেবারে টাইপ করা ফর্মের মধ্যে করে এফআইআরের কপি দেয়া আছে। সব থানায় দিয়ে দেয়, সেই কপিটা নিয়ে গিয়ে সবার নাম ঢুকিয়ে দেয়। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তাতে কি আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো রকমের ভয় সৃষ্টি হয়েছে? তাতে কি এ সমাবেশ বন্ধ করা গেছে? তাতে কি ৬ আগস্ট থেকে আমরা যে সমাবেশ শুরু করেছিলাম তা বন্ধ করা গিয়েছিল? এই অফিসের সামনে যে ঘটনা করেছে তাতে কি বিএনপির আন্দোলনকে বন্ধ করতে পেরেছে।’
এর আগে সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ১২ দলীয় জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে (২০২৩-২৪) যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য, এ দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য জঘন্যতম ঘটনা। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানান, ধিক্কার জানান।’