বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার হয়েছেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলা রয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করা হলেও কীভাবে এবং কোন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুদক সচিব সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান। শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন।
সেদিন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন সাবেক এ বিমান বাহিনী প্রধান। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অর্থের উৎস গোপন করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। অন্য মামলায় হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বামীর সহায়তায় তাহমিদা এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। ওই মামলায় তাহমিদার পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। এছাড়া কানাডায় তার সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করা হবে বলে সে সময় জানানো হয়। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। পরদিন দুদকের আবেদনে হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি তার ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত। একই বছরের ২৪ মে হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয়া হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন হান্নান। চলতি বছরের ৩০ মার্চ হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর হান্নানের নামে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। জমিটির দলিল মূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।