আইএমএফের ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে, পারস্পরিক সমঝোতায় সব চ্যালেঞ্জের সমাধান সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থনৈতিক সমঝোতায় অগ্রগতি দেখছেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক অংশীদারত্ব কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কারের শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা হলেও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জের সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক অংশীদারত্ব কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই চাপ মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ না দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর এ খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন। এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে। অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও চাপ কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও সংস্থাটির সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও