বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। বিশেষ করে বিআরটির নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন কাঠামো এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মো. শামসুল হক, মোসলেহ উদ্দীন হাসান, মো. হাদিউজ্জামান ও রাকিব আহসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিআরটি হলো বাসের জন্য বিশেষ লেনভিত্তিক ব্যবস্থা, যা মেট্রোরেলের মতো যানজটহীন যাতায়াত সুবিধা দেয়। ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের মধ্যে বিআরটি গড়ে তুলতে ২০১২ সালে একটি প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। সোয়া ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করে এ বিআরটির ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নকশাগত জটিলতার কারণে এখন প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিআরটির নকশাগত ত্রুটির দায়-দায়িত্ব এবং প্রকল্পটি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে গত বছর মন্ত্রণালয় থেকে দুটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। এ দুই কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরেকটি ‘‌রিভিউ কমিটি’ করা হয়, সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে রিভিউ কমিটি। প্রতিবেদনে নকশাগত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

যদিও গতকালের সভায় বিআরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছে সভার একটি সূত্র। জানা গেছে, গতকালের সভায় বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাথমিক মতামত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

একই দিনে মৌলভীবাজারের তরুণ উদ্ভাবক ও শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলামের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি এসব পণ্যের উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনযোগ্য পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরির উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সাজ্জাদুল ইসলাম।

এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কাজে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তাকে উৎসাহিত করেন।

আরও