জাতীয় দুর্যোগে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণ সভা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ। জাতীয় সংকটের সময় সবার আগে মানুষের কথা ভাবতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা শুধু সামাজিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও।
মাইলস্টোন স্কুলের দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সীমাহীন শোকের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ধৈর্য ও দৃঢ়তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসে শোকাবহ অধ্যায় হয়ে থাকবে। দগ্ধ শিশুদের উদ্ধারে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেয়া শিক্ষিকা মেহরিনের আত্মত্যাগের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি দেশের চিকিৎসকরাও আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বার্ন ইউনিটের স্কিন ব্যাংক ও চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বলেও জানান তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি বার্ন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। তিনি ২১ জুলাইকে ‘বার্ন সচেতনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটকে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
স্মরণসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ থ্রিবেদী, ড্যাব সভাপতি ডা. হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও সহায়তায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকে সম্মাননা দেয়া হয়।