কার্ডে মিলবে নির্ধারিত সার, অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধে ঝিনাইদহে উদ্যোগ

কৃষি অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান, গম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। প্রতিবার সার উত্তোলনের সময় কার্ডে সারের পরিমাণ, ফসলের নাম ও বিতরণের তারিখ উল্লেখ থাকবে। ফলে নির্ধারিত মাত্রার বেশি সার উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না

ফসলের জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি সার ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে ঝিনাইদহে সার কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ কার্ডের মাধ্যমে জমির পরিমাণ ও আবাদি ফসল অনুযায়ী সরকারি নির্ধারিত মাত্রায় সার পাবেন কৃষকরা। পর্যায়ক্রমে জেলার সব কৃষককে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সার কার্ডে কৃষকের নাম, ছবি, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জমির পরিমাণের তথ্য থাকবে। পাশাপাশি কোন কৃষক কোন ফসল চাষ করছেন, সেটিও সংরক্ষণ করা হবে।

কৃষি অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান, গম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। প্রতিবার সার উত্তোলনের সময় কার্ডে সারের পরিমাণ, ফসলের নাম ও বিতরণের তারিখ উল্লেখ থাকবে। ফলে নির্ধারিত মাত্রার বেশি সার উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না।

এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের ব্লকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণও চলছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বেশি সার প্রয়োগ করলেই ফলন বেশি হবে বলে মনে করেন। আবার প্রয়োজনের সময় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিতেও পড়তে হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ফসলভিত্তিক নির্ধারিত মাত্রায় সার পাওয়া গেলে একদিকে উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে জমির উর্বরতা রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক শৈলকুপার আব্দুল রহিম বলেন, ‘অনেক সময় আমরা ধারণা থেকে জমিতে বেশি সার ব্যবহার করি। মনে করি বেশি সার দিলে ফলন বেশি হবে। কিন্তু কৃষি বিভাগের নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী সার ব্যবহার করলে খরচ কমবে এবং জমিরও উপকার হবে।’

ত্রিবেণী ইউনিয়নের সার ডিলার জাফর মোল্লা বলেন, ‘সার কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। জমির পরিমাণ ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সারের হিসাব সংরক্ষণ করা যাবে। এতে সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত সার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেই সার কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সারের অপচয় ও অতিরিক্ত ব্যবহার কমবে। একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও