দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় জীবন মহল নামে একটি বিনোদন পার্কে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তৌহিদি জনতার ব্যানারে গতকাল বেলা সাড়ে ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পার্কের লোকজনের সঙ্গে তৌহিদি জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে দুটি মাইক্রোবাস ও পাঁচ সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিরা মাইকে স্লোগান দিতে দিতে জীবন মহল পার্কের সামনে জড়ো হয়। একই সময় আরো দুটি মিছিল সেখানে সমবেত হতে দেখা যায়। তাদের হাতে রড, লাঠিসোঁটা, মশাল, হকিস্টিক ছিল। বিকাল ৪টার দিকে একযোগে পার্কে হামলা চালানো হয়। সেখানে অবস্থানরত পার্ক মালিক জীবন চৌধুরী ও তার অনুসারীরাও পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পার্কের মধ্যে থাকা দরবার শরিফ, খানকাসহ বেশকিছু স্থাপনা ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তৌহিদি জনতার পক্ষে আব্দুল লতিফ ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জীবন মহল পার্ক অশ্লীলতার আখড়া। ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বিনোদনের নামে অশ্লীল কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশ পার্কে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পার্ক মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। পার্কের মধ্যে একটি মসজিদের পাশাপাশি খানকা শরিফ খোলা হয়েছে। যেখানে নারী-পুরুষ একত্রে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকে, যা ইসলাম ধর্ম কখনো অনুমোদন করে না। এ কারণে তৌহিদি জনতা অশ্লীলতা বন্ধে অভিযান চালিয়েছে।’
ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনতাকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছেন। সেই সঙ্গে পার্কে অশ্লীলতার ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলে জনতা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এর আগে ১৭ আগস্ট ওই পার্কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এ সময় দুই নারী ও পাঁচ পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পার্কের মালিক আনোয়ার হোসেন ওরফে জীবন চৌধুরীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিরল উপজেলার কাঞ্চন মোড় এলাকায় প্রায় এক যুগ আগে বিনোদন পার্কটি গড়ে তোলা হয়। বিনোদন কেন্দ্রের মালিক আনোয়ার হোসেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে আনোয়ার হোসেন ওরফে জীবন চৌধুরী বলেন, ‘পার্কে অভিযান চালানোর পর বিভিন্নভাবে অপপ্রচার ছড়ানো শুরু হয়। হামলার খবর শুনে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদে অংশ নেয়। কিন্তু ওই পক্ষ ট্রাকে করে পাথর ও লাঠিসোঁটা এনে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’
পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সেখানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। মামলা দিয়েছে, জরিমানাও করেছে। গতকাল স্থানীয় লোকজন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। তারা কোনো ধরনের ঝামেলায় না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু জীবন চৌধুরী বাইরে থেকে লোক এনে তাদের ওপর ঢিল ছুড়েছেন। তখন তারাও আক্রমণ করেছেন। কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা মামলা করতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’