বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনায় ট্রলারডুবি

নারীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪

ট্রলারটি মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। এ সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে রায়েসা আক্তারসহ একই পরিবারের চারজন পানিতে তলিয়ে যান। পরে রায়েসা আক্তারের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে বাকি চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লার হোমনা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে রায়েসা আক্তার (৫২) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার পাশে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রায়েসা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তার মরদেহ উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

নিখোঁজ চারজন হলেন— হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার দুই ছেলে সজিব হোসেন (২৫) ও সামিন হোসেন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৮)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়ার বাসিন্দা শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন স্বজন একটি ট্রলারে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের আয়োজনের জন্য দুটি গরু, একটি খাসি ও বিভিন্ন বাজারসামগ্রী ছিল।

ট্রলারটি মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। এ সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে রায়েসা আক্তারসহ একই পরিবারের চারজন পানিতে তলিয়ে যান। পরে রায়েসা আক্তারের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে বাকি চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বৈদ্যের বাজার নৌফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, বিয়ের আয়োজনের মালামাল ও গবাদিপশু নিয়ে আসার সময় ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে একজন মারা গেছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। খবর পাওয়ার পর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। পরে অন্ধকার নেমে আসায় নদীতে ডুবুরি দলের তৎপরতা ব্যাহত হয়।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে মেঘনা নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ আবারো তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

আরও