১৪২ কিলোমিটার যশোর সীমান্তে নেই কাঁটাতারের বেষ্টনী

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের ১৪২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কোনো কাঁটাতারের বেষ্টনী নেই।

এ অরক্ষিত ভৌগোলিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত দিয়ে হরহামেশাই ঘটছে অবৈধ প্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঁটাতার না থাকায় যশোর সীমান্ত এখন স্বর্ণ ও মাদকের চোরাচালানের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিজেপি সরকার গঠনের পর এ সংকট এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। জোরপূর্বক পুশ-ইনের চেষ্টায় সীমান্তে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৩০ মে গভীর রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর খড়ের মাঠ এলাকায় আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২-১৫ জনের একটি দলকে শূন্যরেখায় ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় বর্ডার গার্ড (বিএসএফ)। সে সময় বিজিবির টহলদল স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বিএসএফের এ পুশ-ইনের অপচেষ্টা রুখে দেয়। ঘটনার চারদিন পর শূন্যরেখায় আটকে থাকা দলটিকে বিএসএফ সরিয়ে নেয়। ঘটনার দেড় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এলাকায় এখনো আতঙ্ক ও উত্তেজনা কাটেনি। বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পুশ-ইনের উদ্দেশ্যে ওপারে বিএসএফের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে প্রচুর মানুষ জড়ো করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘মাঝে মধ্যে জমিতে কাজ করতে গেলে বিএসএফ নির্যাতন চালায়। আমাদের পাশে কাঁটাতার নেই, তাই আমরা আতঙ্কে থাকি। ওদের পাশে কাঁটাতার থাকায় ওরা রক্ষিত।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যশোর সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা কাছে হওয়ায় এটি চোরাকারবারিদের অত্যন্ত পরিচিত ও সহজ রুট। বিএসএফ তাদের সীমান্তের পকেট গেট খুলে দিয়ে সহজেই পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। বিএসএফের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপরীতে বাংলাদেশের দিকের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত বেহাল।

লেখক ও সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যাপক পাভেল চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েন আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের মতো অপরাধ বাড়িয়ে দেয়।’

৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতার থাকলে মাদক ও চোরাচালান কমত। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে বিএসএফের পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।’

আরও