গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংগঠনটি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি মিনিট্রাক ২০১১ সালের ১১ জুলাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পর তাদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক কোনো কর্মসূচি নেয়নি সরকার। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরছে।’
শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতি গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।’
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৭ শিক্ষার্থী ও আহত হয়েছে ১১ জন। মার্চে ৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ শিক্ষার্থী নিহত ও একজন আহত হয়েছে। এপ্রিলে ৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৭৩ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয় ৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায়। জুনে ৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহতের খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।