সিলেটের সব স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধের ঘোষণা

সিলেট বিভাগের সব স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে আগামীকাল থেকে পাথর এবং চুনাপাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আমদানিকারকরা।

সিলেট বিভাগের সব স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে আগামীকাল থেকে পাথর এবং চুনাপাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আমদানিকারকরা। আমদানি শুল্ক ও কাস্টমস ডিউটি বৃদ্ধির প্রতিবাদে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। গতকাল সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও ভোলাগঞ্জ পাথর আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মিন্টু এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে একই ইস্যুতে গত বছরের ১৬ আগস্ট থেকে পাঁচদিন পাথর ও কয়লা আমদানি বন্ধ রাখেন আমদানিকারকরা। 

তামাবিল ও শেওলা স্থলবন্দর ছাড়াও কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বাগলি, বড়ছড়া ও চারাগাঁও এবং ছাতকের ইছামতি ও চেলা স্টেশন দিয়ে মূলত চুনাপাথর ও বোল্ডার আমদানি করা হয়। সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় মূলত পাথর আমদানিকে কেন্দ্র করেই সচল থাকে এ অঞ্চলের বন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলো। 

ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘ভারত থেকে পাথর ও চুনাপাথর আমদানির ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু প্রতি টনে ২ ডলার বৃদ্ধি করেছে। এই বাড়তি শুল্ক দিয়ে পণ্য আমদানি করতে হলে আমদানিকারকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই সিলেটের সব বন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে পাথর এবং চুনাপাথর আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোমবার থেকে সিলেট বিভাগের সব বর্ডার দিয়ে পাথর ও চুনাপাথর পাথর আমদানি বন্ধ থাকবে।’ 

তামাবিল চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, ‘এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা খারাপ। তার ওপর টনপ্রতি দুই ডলার করে কাস্টমস ডিউটি বাড়িয়ে দেয়া একেবারে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কর্মকর্তারা অন্য বর্ডারের সঙ্গে তুলনা করে এটি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে সিলেট অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে পাথর আমদানি করে ব্যবসায়ীরা খুব একটা লাভবান হন না। চাপিয়ে দেয়া ডিউটি পরিশোধ করে পাথর আমদানি করতে হলে ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করা লাগবে না, একদিন এমনিতেই আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে।’ 

এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট থেকে একই ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দেন সিলেট বিভাগের আমদানিকারকরা। তখন পাঁচদিন পর আলোচনার ভিত্তিতে পুনরায় পাথর আমদানি শুরু হয়। সিলেট বিভাগীয় স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোর ব্যবসা পরিচালনাসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন জানান, তখন পাঁচদিন আমদানি বন্ধের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ৭৫ সেন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আমদানি শুরুর সিদ্ধান্ত নেন আমদানিকারকরা। ২ জানুয়ারি পুনরায় আমদানি পর্যায়ে আদায়যোগ্য শুল্ক কর বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণী আমদানিকারকদের সংগঠনের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেট কার্যালয়ের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক স্বাক্ষরিত এ কার্যবিবরণীতে বলা হয়, বোল্ডার স্টোন প্রতি টনে ১৩ মার্কিন ডলার, স্টোন চিপস প্রতি টনে ১৪ মার্কিন ডলার ও লাইমস্টোন প্রতি টনে ১৩ দশমিক ৫০ ডলার বা তদূর্ধ্ব মূল্যে শুল্কায়ন করতে হবে। ৮ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে। 

এমদাদ হোসেন বলেন, ‘এভাবে চাপিয়ে দেয়া ডিউটি পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমরা সোমবার থেকে সিলেট বিভাগের সব শুল্ক স্টেশন দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বোল্ডার ও চুনাপাথর আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমদানি বন্ধ থাকবে।’ 

এ ব্যাপারে কথা বলতে কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও