বরিশাল বিভাগে ছয় হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় অরক্ষিত

সীমানাপ্রাচীর ও নৈশপ্রহরী না থাকায় বরিশাল বিভাগের প্রায় ছয় হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

সীমানাপ্রাচীর ও নৈশপ্রহরী না থাকায় বরিশাল বিভাগের প্রায় ছয় হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি। বেদখল হচ্ছে বিদ্যালয়ের জমি। হারিয়ে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজ ও আসবাবপত্র। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি চালাচালি করেও কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ জনপ্রতিনিধিদের।

বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ছয় জেলায় ৫ হাজার ৯৪৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বরিশাল জেলায় রয়েছে ১ হাজার ৫১৩টি। বরগুনায় রয়েছে ৭৭১টি, ভোলায় ৯৮২, পিরোজপুরে ৯৪৬, ঝালকাঠিতে ৫৬৭ এবং পটুয়াখালীতে রয়েছে ১ হাজার ১৬৭টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৯১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়েছে ১০ বছর আগে। বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী এবং সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ছুটির পর থাকে পুরোপুরি অরক্ষিত।

বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চরআইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু জানান, স্কুলে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক পাখা, টেবিল, কাগজপত্রসহ অনেক কিছু চুরি হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় পাঠদান চলাকালীন গবাদিপশু ঢুকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ে দপ্তরি নেই। বাধ্য হয়ে শিক্ষকদেরই এ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও সুফল মেলেনি।

এদিকে বরিশাল নগরীর ভাটার খাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি কাউন্সিলর মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে স্কুলের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সামনের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন মজিবর রহমান। আরেকটি দোকান ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টি তখন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।’

গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রভাবশালীদের বাধা দিতে গিয়ে স্কুল কমিটির একাধিক সদস্য লাঞ্ছিতও হয়েছেন।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য লিটন ব্যাপারী জানান, সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্কুল পরিদর্শনে এসে দখলদারদের জমি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেও তারা কর্ণপাত করছে না। বিষয়টি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। দখলের কারণে শতবছরের এ স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণের জায়গাও নেই।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার পূর্বভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. তাহমিনা জানান, তাদের স্কুলটিতে কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটে। রাতের বেলায় স্কুল থাকে অরক্ষিত।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার মধ্য আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসান মাহমুদ সাইদ অভিযোগ করে বলেন, ‘পাঠদান শেষে সরকারি আসবাবপত্র অরক্ষিত থাকে। এমনকি রাতে স্কুল চত্বরে কী ঘটে তা দেখার কেউ থাকে না। তার ওপর বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ। ২০ বছরের পুরনো ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে।’

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘খোঁজ-খবর নিয়ে বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে সমস্যার সমাধান হবে।’

আরও