নোয়াখালী সদর উপজেলার নেওয়াজপুর কাশেম বাজারে শিবির ও যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, শনিবার কাশেম বাজারের একটি মসজিদে জামায়াত-শিবিরের কুরআন তালিম ও ফরম পূরণের কাজ চলছিল। সেখানে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী গিয়ে জামাত নেতা সেলিম আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ছিল উল্লেখ করে তাকে নিয়ে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম না করার অনুরোধ জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তার প্রতিবাদে গতকাল একই স্থানে প্রতিবাদ সভা ও পুনরায় কুরআন তালিমের আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। এক পর্যায়ে মসজিদে গিয়ে বাধা দেয় যুবদল ও বিএনপির নেতারা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পক্ষে ৩০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ নিয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সেলিমের নেতৃত্বে মসজিদে ঢুকে ফরম পূরণ করেছে শিবির। এ সময় যুবদলের নেতাকর্মীরা মসজিদে রাজনৈতিক কার্যক্রম না করার অনুরোধ জানায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। তারই জের ধরে শিবিরের নেতৃত্বে জেলা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে পুনরায় সেখানে সভা ডাকে ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজেভাবে স্লোগান দেয়। এ সময় তাদের নিবৃত থাকতে বললে তারা যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এ হামলায় নেওয়াজপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক, যুবদল নেতা রায়হান, জিয়াসহ ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হন।’
তিনি দাবি করেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জেলা শহর থেকে গিয়ে সেখানে এ হামলা চালিয়েছে।
শিবিরের শহর শাখার প্রচার সম্পাদক কেএম ফজলে রাব্বি জানান, শিবিরের উদ্যোগে শনিবার কাশেম বাজার মসজিদে কুরআন তালিম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় যুবদল নেতা ফারুকের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। এক পর্যায়ে শনিবার কুরআন তালিম করা যায়নি। পরে আজ (রোববার) পুনরায় সেখানে কুরআন তালিমের আয়োজন করা হলে এদিনও ফারুকের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে হাসান, দেলওয়ার হোসেন মিশু, আবিদ, সালা উদ্দিনসহ ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়।’
সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অবস্) মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে বিকালে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।