স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গতকাল রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ, ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের জন্য ৯২ জনকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেয়া হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ সহ্য করা হবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের শক্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা বেশি।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরো আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কঠোর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে বা অন্যভাবে সহযোগিতা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা ও দায়িত্বে অবহেলা করার ঘটনাও আছে। ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা এক মাসে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, জনগণ তাদেরকে পুনরায় আর আহ্বান জানাবে না। এ ঘটনায় তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি।’ সরকার তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
সরকার সাহসিকতা, অসামান্য সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলা সমাধানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে চারটি মর্যাদাপূর্ণ ক্যাটাগরির পুরস্কার—বিপিএম, বিপিএম-সেবা, পিপিএম ও পিপিএম-সেবা প্রদান করেছে।
২০২৫ সালের জন্য বিপিএম পুরস্কার পেয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। ২০২৫ সালের জন্য বিপিএম-সেবা পুরস্কার পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ও পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি ও রিভার পুলিশ প্রধান মো. রেজাউল করিম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক এবং সাবেক র্যাবের (বর্তমানে এসআরবি) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রশীদ পিপিএম-সার্ভিস পুরস্কার পেয়েছেন।