ছয় মাসেও শুরু হয়নি ক্লাস

মাদারীপুরে অনিশ্চয়তায় ম্যাটসের অর্ধশত শিক্ষার্থী

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নে সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ করা হলেও প্রতিষ্ঠানে এখনো ঝুলছে তালা।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নে সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ করা হলেও প্রতিষ্ঠানে এখনো ঝুলছে তালা। উদ্বোধনের পাঁচ বছর পর অর্ধশত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু ছয় মাসেও শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম। এতে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অর্ধশত শিক্ষার্থীর। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালু করা যাচ্ছে না।

বগুড়ার রুবায়েত মণ্ডল, ময়মনসিংহের জিহাদ হাসান আর রংপুরের সুশান্ত দেবনাথ স্বপ্ন দেখেছিলেন মানুষের সেবার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় ঘুরপাক খাচ্ছে। চার বছর মেয়াদি কোর্সের ভর্তির ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরুই হয়নি পাঠদান। তাদের মতো অর্ধশত শিক্ষার্থীর অবস্থা একই রকম।

সরজমিন দেখা গেছে, কবিরাজপুরের ম্যাটসের ভবনগুলোর চারপাশে ঝোঁপঝাড়ে ভরে গেছে। মূল্যবান ভবনগুলো দেখভালেও কেউ নেই। একাডেমিক ভবন ও আবাসিক ভবনগুলোর একই দশা। প্রশাসনের লোকবল না থাকায় বহিরাগতরা ভেতরে মাদক সেবন করে। জনবলের অভাবে সরকারের উদ্যোগ কোনো কাজে আসছে না।

শিক্ষার্থী রুবায়েত মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম এখানে। ছয় মাস হয়ে গেল, এখনো আমাদের ক্লাস শুরু হয়নি। বাড়ি থেকে টাকা এনে কোনোমতে হোস্টেলে আমরা কয়েকজন সময় কাটাই।’

আরেক শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান বলেন, ‘চার বছরের মধ্যে ছয় মাস কেটে গেল। প্রতিটি ভবনেই তালা ঝুলছে, আমাদের স্বপ্ন এখন হারাতে বসেছি। আমরা চাই দ্রুত এটি চালু করে আমাদের পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়া হোক।’

সুশান্ত দেবনাথ বলেন, ‘মা-বাবার আশা ছিল দ্রুত এখান থেকে পাস করে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলব। সেটি এখন শেষ হয়ে যাচ্ছে। কী করব বুঝতে পারছি না। আমরা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মন্ত্রণালয়েও গিয়েছিলাম, তারা শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা শূন্য।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মাদারীপুর কমিটির সদস্য সুবল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের পাশাপাশি একই সঙ্গে জনবল নিয়োগ না দেয়াটা পরিকল্পনার অভাব। একদিকে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, অন্যদিকে জনবল নিয়োগ দুটি বিষয় একসঙ্গে করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু করা।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলটিতে প্রতি বছর পড়ালেখার সুযোগ পাবে ২৫০ শিক্ষার্থী। এখানে রয়েছে আবাসিক ও অনাবাসিক দুই ধরনের সুবিধা। শিগগিরই  প্রতিষ্ঠানটি চালুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে।’

আরও