পঞ্চগড়ে উদ্যোক্তা সংকটে তালাবদ্ধ ডিসেট সেন্টার

শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কম্পিউটার-ল্যাপটপ অকেজো

পঞ্চগড়ে অধুনালুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় যুক্ত এবং দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে ২০২১ সালে স্থাপন করা হয় ডিজিটাল সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (ডিসেট)।

পঞ্চগড়ে অধুনালুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় যুক্ত এবং দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে ২০২১ সালে স্থাপন করা হয় ডিজিটাল সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (ডিসেট)। শুরুতে তিন মাস পর পর বেসিক কম্পিউটার, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কোর্সের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে সেন্টারটি। উদ্যোক্তা না থাকায় সাত মাস ধরে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া ‘‌আইসিটি প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো স্থাপন কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করে সরকার। যার অধিকাংশ কম্পিউটার ও ল্যাপটপ অকেজো পড়ে আছে। চাহিদার তুলনায় ডিজিটাল ল্যাবের ক্লাসরুম ছোট এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় একসঙ্গে ক্লাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষকদের।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তিপত্রে বলা আছে প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে ল্যাবের যাবতীয় যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করবে। তবে ডিসেট সেন্টারটি চালুর বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে।

জেলা প্রোগ্রামার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সদর উপজেলার মফিজার রহমান কলেজ ডিসেট উদ্বোধন করা হয়। অবকাঠামো, কম্পিউটারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিতে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একজন উদ্যোক্তার মাধ্যমে সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছিল। ২৩টি বিষয়ে ১১২টি ইন্টারনেট সেবা এ সেন্টার থেকে দেয়া হতো। একসঙ্গে ৪০ যুবকের এখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। শুরুতে এখানে তিন মাস পর পর বেসিক কম্পিউটার, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কোর্সের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। চুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণ করানো হয়েছিল। উদ্যোক্তা না থাকায় সাত মাস ধরে সেন্টারটি তালাবদ্ধ রয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যায়নি সেন্টারটি।

এ বিষয়ে সহকারী প্রোগ্রামার মো. শায়খ শিহাব উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডিসেট সেন্টারটি চালুর বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা নিয়োগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

এদিকে ২০১৮ সালে সরকার ‘‌আইসিটি প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো স্থাপন কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জেলার চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করে। এছাড়া সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের মফিজার রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থাপন করা হয় ডিসেট সেন্টার। এর মধ্যে সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের পাহাড়তলি উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাফিজাবাদ ইউনিয়নের ঠেকরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়। এছাড়া দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজী লুৎফর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কোর্ট ভাজিনি লাল উচ্চ বিদ্যালয়েও স্থাপন করা হয় ডিজিটাল ল্যাব।

চারটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের কম্পিউটারসহ যন্ত্রপাতি দেয়া হয়। বিদ্যালয়গুলোয় ২০টি ডেস্কটপ, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, শিক্ষার্থীদের জন্য ২০টি টেবিল, ২০টি ইউপিএসসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেয়া হয়। এছাড়া ডিসেট সেন্টারটিতে ২০টি ডেস্কটপ, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, ফটোকপি মেশিনসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেয়া হয়।

মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূর-উল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কলেজে ২০১৮ সালের এপ্রিলে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়। দুই বছর পর নয়টি ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যায়। সেই থেকে ডিজিটাল ল্যাবে ক্লাস নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রথম থেকেই ল্যাপটপগুলো ধীরগতিতে চলছিল। নিজের টাকা খরচ করে দুবার মেরামত করেও ল্যাপটপগুলো সচল হয়নি।’

দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বিলুপ্ত কোট এনবিএল ভাজিনি লাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম প্রধান জানান, ২০১৮ সালে তাদের স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়। দুই বছর ধরে ডিজিটাল ল্যাবের পাঁচটি ডেস্কটপ অকেজো পড়ে আছে। চেয়ারগুলোর হাতল ভেঙে যাচ্ছে। ডেস্কটপগুলো মেরামত করে আরো ৩০টি ডেস্কটপ সরবরাহ করলে তারা ঠিকভাবে ল্যাব চালাতে পারবে।

ডিজিটাল ল্যাবগুলোর বিষয়ে সহকারী প্রোগ্রামার মো. শায়খ শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘আসলে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ পরিবর্তন করতে সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই। ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তিপত্রে বলা আছে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে ল্যাবের যাবতীয় যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। কম্পিউটারের বিষয়ে কেন আমরা টেকনিক্যাল সহযোগিতা দেব?’

আরও