ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ বদলে গেল তরুণের জীবন

বৈচিত্র্যময় খাগড়াছড়ি এমনিতেই সৌন্দর্যপিপাসুদের প্রিয় গন্তব্য।

উপত্যকা, ঝিরি, অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা ও আলুটিলা রহস্যময় গুহাসহ পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের মধ্যে এবার সবার নজর কেড়েছে একটি আঙুরবাগান। দূর থেকে দেখলে মনে হয় বিদেশের কোনো আঙুরখেত। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা মিষ্টি আঙুর পথচারীদের শুধু নজরই কাড়ছে না, তাদের থামতেও বাধ্য করছে।

এ আঙুরবাগানের রূপকার খাগড়াছড়ির দীঘিনালার তরুণ চাষী সালাহ উদ্দীন। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে আঙুর চাষের বিস্তৃতি ঘটাতে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, সদিচ্ছা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা—এমনটাই বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে মাত্র দুটি আঙুরের চারা দিয়ে চাষ শুরু করেন সালাহ উদ্দীন। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করলেও ধীরে ধীরে গাছ বড় হতে থাকে। নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ ও আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে এখন প্রতিটি গাছে ঝুলছে আঙুরের থোকা।

বর্তমানে সালাহ উদ্দীনের বাগানে বাইকোনুর, ভাইকিং, গ্লোরি, ডিক্সন, দাসোনিয়া, মেডরো ব্ল্যাক, থাই আঙুর, ভেনুস, রেড আরহাম, সুপার নোভা, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিকসহ প্রায় ৬০ জাতের আঙুর রয়েছে। বাগানে গাছের সংখ্যা প্রায় ১৭০টি, যার অধিকাংশেই ফলন এসেছে।

সরজমিনে দেখা যায়, বাগানের বিভিন্ন গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে নানা জাতের আঙুর। নিজ হাতে গাছের পরিচর্যা করছেন সালাহ উদ্দীন। নিজের প্রচেষ্টায় এমন ফলন দেখে বেশ আনন্দিত তিনি।

সালাহ উদ্দীন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজ বাড়ির আঙিনায় আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রথমদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার জাতের আঙুর দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। শুরুতে আশানুরূপ ফলন না পেলেও ধীরে ধীরে ফলন বাড়তে থাকে। পরে চাষের পরিমাণও বাড়ান তিনি।

আঙুর চাষে আবহাওয়াগত প্রতিকূলতার কথাও উল্লেখ করেন এ চাষী। তিনি বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পেলে পাহাড়ে আঙুর চাষের আরো বিস্তার ঘটানো সম্ভব। তার বাগানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বাগান দেখতে আসছেন। বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা বাগান পরিদর্শন ও ফলনের যাচাই-বাছাই করেন।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সফলভাবে ফলন পাওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাগানের আঙুরের মিষ্টতা পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে।’ তিনি জানান, ‘অস্টিন’ জাতের আঙুরে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ মিষ্টতা পাওয়া গেছে। আরো দক্ষতা ও মনোযোগের সঙ্গে চাষাবাদ করলে ফলন ও মিষ্টতা দুটোই বাড়ানো সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে সফল হয়েছেন সালাহ উদ্দীন। আবহাওয়াগত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করা গেলে পাহাড়ে আঙুর চাষের আরো বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।’ বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে বিদেশী জাতের আঙুর উৎপাদনের মাধ্যমে পাহাড়ের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে উন্মোচিত হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

আরও