ফেনীতে
যৌথ ব্যবসার ৭১ লাখ টাকা
আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর টাকা ফেরত
না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নুরুল আবছারের কাছে ১ কোটি ১৫
লাখ ৩৪ হাজার টাকা
পাওনা দাবি করে আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা হলে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগশন (পিবিআই) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। ওই অভিযোগপত্রেও নুরুল আবছারের সরলতার সুযোগে ব্যবসার অংশীদার আবু তাহেরের প্রতারণার বিষয়টি উঠে আসে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে মেসার্স নুরুল আবছার কনস্ট্রাকশন ফার্ম নামে অংশীদারি ব্যবসা করে আসছেন ফেনী পৌর শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা নুরুল আবছার, আবু তাহের ও শহিদুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী নুরুল আবছার ভৌত কাঠামো ও ব্যবসায়িক সুনাম, আবু তাহের পুঁজি এবং শহিদুল ইসলাম কাজের বিনিময়ে ব্যবসায় অংশীদারত্ব পান।
প্রতিষ্ঠানটির নথিপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, বিনিয়োগ অংশীদার আবু তাহের সিসি লোনের সুদের কথা বলে ২০১০-২০১৯ সাল পর্যন্ত কোম্পানি থেকে ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫০ টাকা নিয়ে ব্যাংকে পরিশোধ করেন মাত্র ৪৫ লাখ ৮২ হাজার ১০৪ টাকা। বাকি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৪৯৬ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আবু তাহের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আরো ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা কোম্পানির কাছে পাওনা রয়েছে দাবি করে আদালতে মামলা দিয়ে নুরুল আবছারকে হয়রানি করতে থাকেন। এমনকি এ নিয়ে তাকে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেন। একপর্যায়ে হয়রানি থেকে বাঁচতে নুরুল আবছারও ফেনীর আদালতে তাহেরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। আদালত উভয় মামলা তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
পিবিআই কোম্পানির যাবতীয় হিসাবপত্র, সভার কার্যবিবরণী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা শেষে আদালতে আবু তাহেরকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযোগপত্র দায়ের করে। ওই অভিযোগপত্রে আবু তাহেরের দাবীকৃত বিনিয়োগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা এবং ব্যাংক সুদের কথা বলে কোম্পানির টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নুরুল আবছার বলেন, ‘কোম্পানি পরিচালনায় আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আবু তাহের প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরে অনৈতিকভাবে দাবীকৃত টাকা না দিতে পারায় তিনি আমার বিরুদ্ধে আদালতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একটি মামলা করে নানাভাবে আমাকে হয়রানি করেন। তার প্রতারণা থেকে বাঁচতে আমি ২০২২ সালে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। পিবিআই মামলা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে তাহেরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তাহের সমঝোতার শর্তে জামিন নিয়ে তা ভঙ্গ করলে গত ৩০ মার্চ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবু তাহের কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।