কর্মশালায় বক্তারা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এনজিওগুলো

বাংলাদেশের বহুমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) গুলোর অবদান অনিস্বীকার্য। দেশের প্রান্তিক ও অভাবী জনগোষ্ঠীকে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের বহুমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) গুলোর অবদান অনিস্বীকার্য। দেশের প্রান্তিক ও অভাবী জনগোষ্ঠীকে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে, অর্থায়নের অস্থিরতা, সমন্বয়ের অভাব ও কার্যক্রমের প্রকল্পভিত্তিক প্রকৃতি দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে কিছুটা ব্যার্থ হচ্ছে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যখাতে এনজিওদের ভূমিকা ও ভবিষ্যত পথচলা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা।

ইউনিসেফ এর সহায়তায় ইউনিভার্সেল হেল্থ কভারেজ, ইউএইচসি ও পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার,পিপিআরসি’র এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ইউএইচসি এর ফোরামের আহ্বায়ক হোসেন জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার,পিপিআরসি’র সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ , সেফ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল এর শিশু স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. গৌতম বণিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ড. এম এ ফায়েজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিভাবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও বেশি অবদান রাখতে পারে সে বিষয়েও আলোকপাত করেন আলোচকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা(এনজিও)গুলো স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য নীতিমালার উন্নয়নে সাহায্য করছে। বিশেষ করে, এনজিও-রা প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করছে। তবে, এনজিও-দের আর্থিক সমস্যা এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা তাদের কাজকে কঠিন করে তুলছে। আলোচনায় আরও বলা হয়েছে যে, এনজিও গুলো প্রায়ই আলাদাভাবে কাজ করে, যার ফলে একই কাজ বিভিন্ন এলাকায় করা হয়, আবার কিছু এলাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছায় না। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এনজিও-দের কাজের একটি তালিকা থাকা দরকার, যেখানে তাদের অর্থায়ন এবং কারা সুবিধা পাচ্ছে, সেই তথ্য উল্লেখ থাকবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১৮৭টি এনজিও স্বাস্থ্যখাতে কাজ করার জন্য ২১৯৩ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পেয়েছে। এই অনুদানের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রচার এবং সচেতনতামূলক কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, বিদেশি অনুদান কমে যাওয়ায় এই খাতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে।

আরও