রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের কৃষ্ণ রায় নামের এক শিক্ষার্থীকে শিবির কর্মী আখ্যা দিয়ে নির্যাতন ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনের রাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘ক্যাম্পাস হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ জায়গা, কিন্তু আমার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সব থেকে অনিরাপদ। আমরা কী এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? আমার মেয়েরাও এ নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। মেয়েদেরকেও নির্যাতন করে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও করা হচ্ছে। আমরা বিশ্ব র্যাংকিং নিয়ে চিন্তা করছি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে পারছি না। ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা নেই, অসহায় পরিবার থেকে উঠে আসা। সে এ নির্যাতনের চিত্র ভুলবে কীভাবে? আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।
বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে হলগুলো শিক্ষার্থীদের বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে। নিয়মিত সব হলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছুই করতে পারছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার পরিবেশ নেই। আমার ছাত্র কৃষ্ণকে শিবির সন্দেহে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। যখন কৃষ্ণ বলেছে আমি হিন্দু। তখন তারা (ছাত্রলীগ) বলে, তাহলে তো তোকে মেরে ফেলা আরো সহজ, তুই সংখ্যালঘু হওয়ায় কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না। ছাত্রলীগ এখন গুণ্ডাতন্ত্রে বিশ্বাসী।’
এদিকে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোয় ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে প্রতীকী অনশন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খাঁন। প্রশাসন ভবনের সামনে তার সঙ্গে অনশনে যোগ দেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।