চট্টগ্রাম-১ আসন

কোনো কেন্দ্রেই পাওয়া যায়নি প্রার্থীর এজেন্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। এ আসনের ভোটগ্রহণ হচ্ছে ১০৬টি কেন্দ্রে। তবে ভোটের দিন একটি কেন্দ্রেও উপস্থিত পাওয়া যায়নি সব প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে। গতকাল ভোটগ্রহণ শুরুর পর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

গতকাল মিরসরাই সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৯ মিনিট আগে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে উপস্থিত রয়েছেন ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা, আপেল ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের এজেন্ট। যদিও এ কেন্দ্রে সব প্রার্থীর এজেন্ট রয়েছেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটগ্রহণ শুরুর বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে পূর্ব সাহেরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন চারজন প্রার্থীর এজেন্ট। এ কেন্দ্রে হাতপাঞ্জা, তারা ও হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার ইব্রাহীম আল আজাদ জানান, তিনি চারজন প্রার্থীর এজেন্টের ফরম পেয়েছেন। বাকি প্রার্থীরা এজেন্ট ফরম জমা দেয়নি।

১১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের চারটি বুথে মোট পাঁচজন প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত আছেন। তবে সব বুথে নেই সব প্রার্থীর এজেন্ট। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।

দুপুর সাড়ে ১২টায় জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন চারজন প্রার্থীর এজেন্ট। ওই কেন্দ্রে সব প্রার্থীর এজেন্ট না থাকার কথা স্বীকার করেন প্রিজাইডিং অফিসার মো. আল আমিন। তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, হাত পাখা ও লাঙ্গল মার্কার এজেন্ট আছে।’

একই চিত্র দেখা গেল করেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও। সেখানকার প্রিজাইডিং অফিসার মৃণাল কান্তি ভৌমিক বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে হাতপাঞ্জা ও তারা মার্কার প্রার্থী ছাড়া বাকিদের এজেন্ট রয়েছেন।’

সব কেন্দ্রে প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট না থাকার বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘সব কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া কিংবা ঢুকতে না দেয়ার কোনো চাপ ছিল না।’

উল্লেখ্য, এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাতজন হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), মুসলীম লীগের জুলফিকার বুলবুল (হাতপাঞ্জা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহম্মদ চৌধুরী (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) একেএম আবু ইউছুপ (তারা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম (আপেল), জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল)।

আরও