দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের টার্মিনালে এলএনজিবাহী কোনো কার্গো ভিড়তে পারছে না। এতে করে এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম তীব্রভাবে ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ব্যাপকভাবে এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে।
এতে করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) সরবরাহ এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণে দুই বিতরণ অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) পেট্রোবাংলা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীতে অবস্থিত এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) গত ১৭ জুন থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো এলএনজিবাহী কার্গো ভিড়তে (বার্থিং) করতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে বিতরণ কোম্পানি তিতাস ও কর্ণফুলী এলাকার গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। জনসাধারণের সার্বিক অসুবিধার জন্য পেট্রোবাংলা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত কী পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হয় তা দৈনিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা। গত দুই দিন পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জাতীয় গ্রিডে কী পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে সে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে পেট্রোবাংলার অপারেশন বিভাগের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুর্যোগজনিত কারণে এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ২০০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। আগামীকাল ভোর নাগাদ আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১৯ জুন বিকাল নাগাদ এলএনজি সরবরাহ বাড়বে।’