টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গতকাল রাত ৮টার দিকে সিআইডির একটি দল কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলীর মো. জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও করিমগঞ্জের প্রহর (২৮) ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মেহেদি হক নিয়ন (৪৯)-কে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট অনলাইন প্রতারক চক্রটি টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডির মাধ্যমে জালেস জুয়েলারি নামের প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেয়। বাদী ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখে চাকরি করতে আগ্রহী হলে কৌশলে একটি ফিশিং লিংক তৈরি করে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়।
প্রথমে বাদীকে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্নের মাধ্যমে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি বাদীকে বিভিন্ন রাউন্ডে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার কথা বলে। অর্ডার সম্পন্ন করার সময় বাদীর অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের মুনাফা দেখানো হয়। পরবর্তী অর্ডার সম্পন্ন এবং প্রদর্শিত মুনাফার টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে বলা হয়।
প্রতারক চক্রের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে চক্রটি বাদীর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এ ঘটনায় বাদী পল্টন থানায় ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মামলা করেন। এতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪১৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করার পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দুই আসামিকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।