ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৩ মাস পানির নিচে মাঠ, খেলাধুলা বন্ধ

ফেনী সদর উপজেলার কালীদহ ইউনিয়নের ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠটি দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ।

ফেনী সদর উপজেলার কালীদহ ইউনিয়নের ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠটি দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলা বন্ধ। আবদ্ধ পানির বিষক্রিয়ায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায়  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিগগিরই মাঠ ভরাটের আশ্বাস দিয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানায়, গত এপ্রিলে বিদ্যালয়ের পাশের ব্যাপারী বাড়ির হাফেজ আহাম্মদের জায়গায় ঘর নির্মাণের জন্য ভরাট করা হয়। এতে বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। মাঠে তিন/চার ফুট পানি থাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর খেলাধুলা বন্ধ। 

এদিকে বিদ্যালয়ের পাশের মমতাজুল হক চৌধুরী বাড়ি ও চত্তর ব্যাপারী বাড়ির অন্তত আটটি টয়লেট তলিয়ে যাওয়ায় পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। শিশু-কিশোররা ওই পানিতে নেমে চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সরজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরছেন আবুল কাশেম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। অন্য প্রান্তে সজীব নামের এক কিশোর মাঠের পাশে ত্রিভুজী জাল বসিয়ে মাছ আটকানোর চেষ্টা করছে। আশপাশের টয়লেটের ময়লায় দূষণ হওয়ায় এলাকার সচেতন লোকজন পানিতে নামছে না। নিজেদের সন্তানদেরও নামতে দিচ্ছেন না। পানির চাপে পাশের বাড়ির বসতঘর ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে চত্তর ব্যাপারী বাড়ির প্রবেশপথ । 

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী করিম জানান, ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের মাঠে না নামার জন্য আটকে রাখা হয়। তার পরও শিশুরা পানিতে যেতে চায়, খেলতে চায়। 

কিশোর শামীম বলে, ‘বিদ্যালয় ছুটির পর প্রতিদিন আমরা এ মাঠে খেলাধুলা করতাম।এখন আর কেউ মাঠে খেলতে আসে না। বিকালে রাস্তার পাশে বসে সবাই সেলফোনে গেম খেলে।’ 

স্থানীয় কালীদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মীর হোসেন মজুমদার মিরু বলেন, ‘আমি মাঠে গিয়ে স্থানীয়দের পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করি। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে তৎপর না হওয়ায় এখন পর্যন্ত পানি মাঠে রয়ে গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’  

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি মাঠ ভরাটের জন্য মাটির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’ 

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমি অবহিত হয়েছি। শিগগিরই ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হবে।’

আরও