তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সরকার তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা বাস্তবায়নে নিরন্তর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান।’
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকার বা কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক সংকট। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে বিগত কয়েকদিন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসাবাড়ির রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি এরই মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। এলএনজির কার্গোও এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আবার বেড়েছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘এ সমস্যা দ্রুত নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না, জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রেও দেশবাসী তা দেখেছে। তবে এর মধ্যেও অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার এসব চক্রান্ত শনাক্ত করে তা প্রতিহত করেছে এবং একই সঙ্গে জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা থাকবে। এ জবাবদিহিতা সংসদে হতে পারে, দলের নেতাকর্মীদের কাছেও হতে পারে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও হতে পারে। সরকার এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। অতীতে, বিশেষ করে ‘‘ফ্যাসিস্ট আমলে’’, মেগা প্রকল্পের নামে ‘‘মেগা দুর্নীতি’’ হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সরকার এখন প্রকৃত উন্নয়ন করছে।’
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তার কাছে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে, এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো সমৃদ্ধ ও দৃঢ় করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি কীভাবে দূর করা যায়, তা দেখভাল করা।’
তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’ এ কাজে দলের সহকর্মীরা সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেয়া হবে এবং যথাসময়ে কমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’
তবে তিনি জানান, কেউ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি পুরোপুরি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। বরং তার ‘ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি’ হবে এবং তাকে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে উচ্চতর পদ ও দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।