টানা বৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকটি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে মেয়েদের দুটি হলে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ থেকে ভিসি চত্বর, গণিত ভবন, কার্জন হল ও পলাশী এলাকায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা জানান, নিচতলায় পানি ঢুকে বারান্দা তলিয়ে গেছে। ওয়াশরুমের ময়লা পানিও বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খাওয়ার পানির সংকটের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে হলের ভেতরের দোকান থেকেও শুকনো খাবার সংগ্রহে ভোগান্তি হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে ক্যাম্পাসের সঙ্গে দুই হলের যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় অনেক স্থানে কোমরসমান পানি জমে থাকায় পারাপারের জন্য ভ্যানচালকেরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছেন। আবার হলের মূল গেট পর্যন্ত যেতে রিকশাচালকেরা জনপ্রতি ২০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা বলেন, বিষয়টি সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাকে জানানো হয়েছে। পানি পাম্প করে অপসারণের কাজ শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। আমার হলে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা এ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। নিচতলার কয়েকটি কক্ষও পরিদর্শন করেছি।
এদিকে টানা বর্ষণের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, উন্নয়নকাজের সময় বড় গাছের চারপাশে কংক্রিট নির্মাণ ও শিকড়ের ক্ষতির কারণে অনেক গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের ঘটনা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
প্রতি বর্ষাতেই মৈত্রী ও বঙ্গমাতা হলে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, সাময়িক পানি অপসারণ নয়, বরং নিউমার্কেট-আজিমপুর ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।