বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)
শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ২০ জনের
মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন
ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১’র
বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার কেরানীগঞ্জের
কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মামলার ২২ আসামিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়
আনা হয়। বাকি তিন আসামি এখনো পলাতক।
গত ২৮ নভেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায়
ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১’র বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণার
জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। ওইদিনও আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়েছিল।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক
প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা ও মামলার বাদী বরকত উল্লাহ। তবে আসামি পক্ষের
আইনজীবীরা রায়ে সন্তুষ্ট নয় জানিয়ে পুরো রায় দেখে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে
জানিয়েছেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা
হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা
করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে ২০২০ সালের ১৫
সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ মামলার মোট আসামি ২৫ জন। এর মধ্যে তিনজন
পলাতক। তারা সবাই বুয়েটের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কর্মী।
মামলার আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু।
মামলার তিন আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন এজাহারভুক্ত ও শেষের জন এজাহার বহির্ভূত আসামি।